রাজধানীতে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৩ মোটরসাইকেল আরোহী

আগের সংবাদ

জ্বালানি ইস্যুতে রাশিয়া-সৌদি স্বার্থে জোর পুতিনের

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২২ , ৯:১৪ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ৪, ২০২২ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে দেশে তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদেরকে জোটে রেখেছে। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসাম্প্রদায়িকতাকে পুজিঁ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু, একটি মহল এখন দেশকে আবার সাম্প্রদায়িক করার অপচেষ্টা করছে। বিগত দুর্গা পূজায় কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনা তারই প্রমাণ। একারণে সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে।

শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উদ্ধোধন করে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার-মানবিক অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সম্মেলন শুরু হয়।

মন্ত্রী বলেন, এদেশ আপনাদের। এখানে আপনাদের জন্ম। তবুও শত্রু সম্পত্তি আইন করে রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এ আইনের নাম পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসলেই তারা ভারত বিরোধী শ্লোগান দেয়, হিন্দু বিরোধী শ্লোগান দেয়। এগুলোকে বিনাশ করতে হবে। এই দেশ আপনাদের। এখানে জন্ম নিয়েছেন। আপনাদের অধিকার আপনাদেরকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকার এবং আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে আছে।

সম্মেলনে নেতারা কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন দ্রুত বাস্তবায়ন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ ১১দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা বলেন। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই হিন্দুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন। আর তার আলামতও দেখা যাচ্ছে জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে হিন্দুরা যাতে কোনো ধরণের সমস্যায় না পড়েন সেটিও প্রশাসনকে আগেভাগেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রসঙ্গত, সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ হিন্দু ভোটার রয়েছেন। মনীন্দ্র কমার নাথকে সভাপতি এবং রমেন মন্ডলকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনে সম্মেলনে ঢাকা মহানগরের থানা এবং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ও প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

সংগঠনের মহানগর শাখার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে দেয়া বক্তব্যে মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা থাকায় আমাদের নিঃশ্বাস ফেলার কিছু জায়গা তৈরি হয়েছে। তবুও আমরা স্বস্তিতে নেই। কারণ এদেশে বৈষম্যের শেষ নেই। ১৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট হয়। তারমধ্যে আমাদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫শ কোটি টাকা। আগামীদিনে সংঘবদ্ধ থেকে দাবি আদায়ে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, হিন্দুদের নিয়ে আলাদা সংগঠনের জন্ম দিতে হবে-এটা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার। রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা। যেভাবে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে তা যদি বন্ধ না হয় তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভভ হবে না।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বেহাত হওয়া মন্দিরের জায়গা ফিরিয়ে দিন। হিন্দুদের ওপর নানা নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু দেশের যেখানে ঘটনা ঘটছে সেখানে সবকিছু ধ্বংস হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের নেতারা হাজির হচ্ছেন। এগুলো কিসের আলামত প্রশ্ন করে তিনি বলেন, তারাও চান আমরা দেশ ছেড়ে চলে যাই। কিন্তু এদেশ আমাদেরও। একারণে আপনাদের বলছি, সাহস হারাবেন না। আমরা এদেশেই থাকব।

সাংসদ পংকজ দেবনাথ বলেন, হিন্দুরা পূজা করলেও এর আর্থিক সুবিধা পান মুসলিমরা। আবার ঈদের সময় আর্থিক সুবিধা পান হিন্দু কর্মকাররা। এভাবেই এদেশের জনজীবন চলছে। কিন্তু যদি হিন্দুশূন্য হয়ে যায় সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্খা করেন। সাবেক মন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, বারবার হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন।

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আব্দুল আজিজ বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে বেহাত হওয়া জমি সিটি কর্পোরেশন উদ্ধার করেছে। এরপর কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত ছিল এখানে ময়লার ভাগাড় করা হবে। কিন্তু হিন্দু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে মেয়র সাহেব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মন্দিরের সামনে ময়লার ভাগাড় হবে না। মন্দিরের সঙ্গে সংগতি রেখে এখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করবে সিটি কর্পোরেশন।

সংগঠনের মহানগর শাখার বিদায়ী কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র কুমার মজুমদার বলেন, ঢাকাশ্বরী মন্দিরের ১২ বিঘা সম্পত্তি এখনো আমাদের দখলে নেই। এই সম্পত্তি উদ্ধারে উচ্চ আদালতে একডজন মামলা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রমজানের পর খারাপ দিন আসছে। কিভাবে প্রতিহত করবেন তা এখন থেকেই চিন্তা করার কথা বলেন তিনি।

রি-এবি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।