রাশিয়া থেকে তেল না কেনার ঘোষণা কানাডার

আগের সংবাদ

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে কোণঠাসা রাশিয়া

পরের সংবাদ

কিউইদের অপেক্ষা দীর্ঘ করল প্রোটিয়ারা

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২২ , ১০:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১, ২০২২ , ১০:১৭ অপরাহ্ণ

ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৮ রানে জয় পেয়ে ১-১ সমতা নিয়ে সিরিজ শেষ করল সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের ফলে ৯০ বছরের অপেক্ষাটা আরো একবার দীর্ঘায়িত হলো নিউজিল্যান্ডের জন্য। এ টেস্টে জয় বা ড্র হলেই হয়তো এ অপেক্ষার অবসান ঘটত। কিন্তু শেষ দিন দুপুরের বৃষ্টিও সহায় হয়নি কিউইদের জন্য। ৯৪তম ওভারে এসে মহারাজের বলে ম্যাট হেনরি এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে সমতা নিয়েই সিরিজ শেষ করতে হয় টম লাথামের দলকে।

কাকতালীয়ভাবে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বৈরথের প্রথম টেস্টও ১৯৩২ সালের ১ মার্চ শেষ হয়েছিল। সেবার সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ১২ রানে জিতে সিরিজটা না হারার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিল। ৯০ বছর পর এসে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে গতকাল ১ মার্চ আবারো ১৯৮ রানের জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হার এড়িয়েছে। ২০২২ সালে এসে অপেক্ষার প্রহরটা আরো একবার বাড়ল কিউইদের জন্য। প্রথম টেস্টে লজ্জার রেকর্ড গড়ে হারার পর একই মাঠে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা নিয়ে সিরিজ শেষ করল প্রোটিয়ারা। এ নিয়ে ৯০ বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৭টি সিরিজ খেলে একবারও জয়ের স্বাদ পায়নি নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে প্রথমে ব্যাট করে জয় পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকাই প্রথম কোনো দল, যারা এই মাঠে টস জিতে ব্যাট করতে নামার পর ম্যাচ জিতে রেকর্ড করল।

দ্বিতীয় ইনিংসে এসে কাইল ভেরেনের সেঞ্চুরির সুবাদে প্রোটিয়ারা ৩৫৪ রান করলে নিউজিল্যান্ডের সামনে ৪২৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড়ায়। জিততে হলে তাদের বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো কিউইদের। ম্যাচ জিততে না পারলেও সিরিজ জয়ের সমীকরণটা সহজ ছিল তাদের জন্য। দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হলেই হতো। কিন্তু চতুর্থ দিনের শেষভাগে এসে প্রেটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা এবং বাঁহাতি স্পিনার কেশভ মহারাজের তাণ্ডবে টপ অর্ডারে ধস নামে নিউজিল্যান্ডের। অধিনায়ক লাথাম ১, ইয়ং ০, নিকোলস ৭, মিচেল ২৪ রান করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় কিউইরা। চতুর্থ দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান তোলা নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে তখন ডেভন কনওয়ে ৬০ ও উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেল ১ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

পঞ্চম দিনের শুরুটাও দারুণভাবে করেছিলেন কনওয়ে ও টম ব্লান্ডেল জুটি। তাদের ব্যাটিং দেখে টেস্ট ড্র করে সিরিজ জয়ের আশাও জেগেছিল কিউই শিবিরে। ৮৫ রানের জুটি গড়ে প্রথম সেশনটা প্রায় পার করে ফেলেছিলেন দুজন। কিন্তু দলীয় ১৬৬ রানে এসে কনওয়ে আউট হলে ভাঙে ৮৫ রানের জুটি। অল্পের জন্য সপ্তম টেস্টে চতুর্থ সেঞ্চুরি না পেয়ে হতাশ হতে হয়েছে আফ্রিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এ ব্যাটসম্যানকে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কনওয়ে ১৮৮ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে করেন ৯২ রান। রাবাদা-ইয়ানসেনদের দারুণভাবে সামলে নিলেও সিপামলার ইওর্কার ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। এরপর উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেল ও প্রথম ইনিংসে শতরানের ইনিংস খেলা কিউই অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত নিরাপদেই পার করেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর সিপামলার দেখানো পথে অন্য বোলাররাও আরেকটু ফুল লেংথে বল করা শুরু করেন। এরপরে ৩৩ রানের নিউজিল্যান্ডের ৪ উইকেট পেয়ে এর ফলও পেয়েছেন প্রোটিয়া বোলাররা। ২ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১৮৭ রানে মর্কো ইয়ানসেনের বলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন টম ব্লান্ডেল। ইয়ানসেনের পরের ওভারে দলীয় ১৮৮ রানে এসে গ্রান্ডহোমও আউট হন মুল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে। আগের ইনিংসে শতকের দেখা পাওয়া এ ব্যাটসম্যান দুই বাউন্ডারিতে মাত্র ১৮ রান করে ফিরে গেছেন। এরপর কাইল জেমিসন এদিন ইয়ানসেনের তৃতীয় শিকার হন। ১২ রান করে রাবাদার হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। নবম উইকেটে ১৭ রান করে রাবাদার বলে সিপামলার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাউদি ফিরেন ১৭ রান করে। ২২০ রানের মধ্যেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড।

তবুও ম্যাচ বাঁচানোর আশা জেগেছিল কিউইদের মাঝে। তাদের রান যখন ২২৭, তখন বৃষ্টি নামলে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় প্রোটিয়ারা। এমনিতেই প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ৯০ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছে এরপর এই টেস্ট ড্র হলে ৯০ বছর পর এসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হারতে হবে। কিন্তু এ দুশ্চিন্তা কেটে গেছে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরই। প্রকৃতি বরং স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকেই নিরাশ করেছে। খুব বেশি সময় বৃষ্টি হয়নি আর বৃষ্টি থেমে যাওয়ার মাত্র ৯ বল পরই শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ওপেনিংয়ে ধস নামানো বাঁহাতি স্পিনার কেশভ মহারাজের তৃতীয় শিকার ম্যাট হেনরি এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ব্যক্তিগত শূন্য রানেই। ওয়াগনার ১০ রানে অপরাজিত থাকলেও ২২৭ রানেই গুটিয়ে যায় কিউইরা। ১৯৮ রানে জয় পাওয়ার ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে রাবাদা, ইয়ানসেন ও মহারাজ নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট ও সিপামলা নিয়েছেন একটি উইকেট।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন আট উইকেট নেয়া প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা। আর দুই টেস্টে ১৪ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৬ ম্যাচে ২ জয়ে পয়েন্ট তালিকার ৬ নম্বরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। আর ৫ ম্যাচে ৩ জয়ে তালিকার ৪ নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়