প্রথম মা হওয়ার কতদিন পর দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়া স্বাস্থ্যসম্মত

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে না, জার্মানিকেই চায় ব্রাজিল

পরের সংবাদ

সব পথ মিশে গেছে শহীদ মিনারে

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২ , ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২ , ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

অ আ ক খ মায়ের ভাষার এই বর্ণগুলো দিয়ে কথা বলার স্বাধীনতা পেতে বিশ্ব কাঁপানো যে আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পায়। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অহংকারদীপ্ত শোকের এই দিন বাংলাদেশসহ ১৯৪টি দেশে পালিত হচ্ছে।

সোমবার অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী। তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক কোরের ব্যক্তিত্বরা শহীদ মিনারের মূল বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়। ছবি: ভোরের কাগজ

এরপর শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। এসময় বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সমন্বয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখভাল করা হয়। বিশেষ করে মূল বেদী ফুলে ফুলে ছেয়ে যাওয়ায় প্রতিবারের মতো এবছরও শহীদ মিনারের প্রবেশ পথের মূল সিঁড়িতে পুষ্পস্তবক অর্পণের ব্যবস্থা করা হয়।

পড়ুন : ১৯৪ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

পুরো রাত ধরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া রাজধানীর বাইরে সারা দেশে থাকা সব শহীদ মিনারেই তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

প্রভাত ফেরীতে শহীদ মিনারে ভোর থেকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের সারি পলাশী মোড় ছাড়িয়ে নিউমার্কেট এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। একটিমাত্র বা একগুচ্ছ ফুল নিয়ে সবাই শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কারও হাতে হয়তো কিছুই নেই, কিন্তু খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছেন ভাষাসংগ্রামীদের সে রক্তাক্ত ইতিহাসকে। আজ ফাগুন হাওয়ার তপ্ত রোদে নগরীর সব পথ যেন মিশে গেছে শহীদ মিনারে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মাইকে অনবরত বেজেই চলেছে অমর একুশের কালজয়ী ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি। শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ঢলেও এ গানের সুরের অনুরণন তৈরি হচ্ছিল। বেলা গড়ানোর পরও মানুষের স্রোত একটু কমেনি, বিকেল পর্যন্ত এ জনসমাগম থাকবে। তারপর শহীদ মিনারের অনতিদূরে চলা অমর একুশে গ্রন্থমেলায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা জনতার ঢেউ ধাবিত হবে। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাই এদিন থাকবে জনতার মুখরে উল্লসিত থাকবে।

বিপুল এ জনস্রোতে যেন নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা না তৈরি হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যদিও কে কার আগে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে এটি নিয়ে সামান্য বিশৃঙ্খলা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সে পরিস্থতি সামাল দেয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়াও দেশের সব স্তরে ছড়িয়ে থাকা শহীদ মিনার এমনকি বিদেশে থাকা শহীদ মিনারগুলোতেও সবাই স্বতঃস্ফুর্তভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়