কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনারে শিশুদের ভালোবাসা

আগের সংবাদ

মেলা প্রাঙ্গণেই বই পড়ছেন তরুণীরা

পরের সংবাদ

শহীদ মিনারের ঢল নেই বইমেলায়

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২ , ১:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২ , ১:০৬ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রতিবছর সেই জনস্রোত গিয়ে মিশত অমর একুশে বইমেলায়। কানায় কানায় ভরে যেত মেলাপ্রাঙ্গণ। অন্যরকম এক প্রাণের উৎসবে মেতে উঠত সবাই। তবে এবারই দেখা গেছে ব্যতিক্রম। শহীদ মিনারের জনতার ঢেউ বইমেলাতে এবার আছড়ে পড়েনি।

সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় বইমেলার দরজা খুলে যায়। তবে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের পদচারণায় যেভাবে মুখর হওয়ার কথা ছিল তেমনটি দেখা যায়নি। সকাল ১১টা পর্যন্ত মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণ ছিল অনেকটা ফাঁকা। স্টলগুলোতে বিক্রয়কর্মীরা আগেই এসে পড়েছিলেন অনেকটা আগ্রহ আর প্রত্যাশা নিয়ে। তবে তাদের অনেকেই সকালে মেলার চিত্র দেখে হতাশ হয়েছেন।

তবে দুপুর ১২টার দিকে ধীরে ধীরে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে থাকে। পাঠক আর বইপ্রেমীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অনেক স্টলে বেচাকেনাও শুরু হয়। বিগত সময়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে শিশু প্রহর থাকে। শিশু চত্ত্বরে শিশুদের ঢল নামে। অভিভাবক আর শিশুদের কলকাকলিতে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে শিশু চত্ত্বর। তবে এবার শিশু প্রহরের ঘোষণা না থাকায় সেখানেও প্রাণচাঞ্চল্য কম ছিল।

মেলার বিক্রয়কর্মীদের চোখে মুখে হতাশা দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এবারের বইমেলা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দিচ্ছে। যখন বইপ্রেমীদের ভিড় থাকার কথা তখন দেখা মিলছে না তাদের। তবে এবারের একুশে ফেব্রুয়ারির মেলার প্রথম প্রহর অন্য বছরের তুলনায় একেবারেই হতাশাজনক।

তেমনটাই জানালেন অন্যন্যার বিক্রয়কর্মী মো. মিজানুর রহমান। তিনি তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, একুশ বছর ধরে মেলায় কাজ করছি। আজকের দিনের মতো এতটা অস্বাভাবিক চিত্র আগে দেখিনি। শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যে জনস্রোত সৃষ্টি হয়, সেটা সরাসরিই মিশে যেত মেলায়। তবে এবার সেটা দেখা গেল না। মিজানুর বলেন, বলতে পারেন, একুশ বছরের মধ্যেই এই প্রথম এমন অস্বাভাবিক চিত্র দেখলাম। আশা করছি বিকেলটা জমে উঠবে।

ইমু নামের এক বিক্রয়কর্মী বইমেলার দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ঢুকে পড়েন। ভেবেছিলেন আজ চাপ বেশি থাকবে। বেচাকেনাও বেশি হবে। তবে সকালে এসেই তিনি হতাশ। বললেন, সেই সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত স্টলে বসে আছি। তিন ঘণ্টার মধ্যে একজনও স্টলে আসেননি। গত কয়েকদিনের মধ্যে আজই প্রথম মেলা চত্বর ফাঁকা দেখলাম। তবে ১২টা থেকে দেখছি লোকসমাগম বাড়ছে। আশা করছি বিকেলে জমে উঠবে মেলা। তখন বেচাবিক্রি করতে পারব।

এদিকে অনেকেই বলছেন, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অনেকেই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আর বইমেলামুখি হননি। দোয়েল চত্ত্বর-টিএসসি থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কড়াকড়ির কারণেও হয়তো অনেকে বইমেলায় ঢুকতে চাননি। তবে প্রকাশকরা বলছেন, বিকেল ও সন্ধ্যায় জমে উঠবে মেলা। তখন ঢল নামতে পারে বইপ্রেমী ও পাঠকদের।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়