অনেকদিন আগেই রণবীরকে বিয়ে করেছি: আলিয়া

আগের সংবাদ

ফাইজার-মডার্নার বুস্টার ডোজের কার্যকারিতা চার মাসেই কমে

পরের সংবাদ

বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য উপভোগে প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। করোনার প্রকোপ বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ করা হয়েছে সশরীরে ক্লাস। তবে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র। বিশেষত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত দর্শনার্থী সমাগমের কারণে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দেখা যাচ্ছে বিশৃঙ্খলা। জীববৈচিত্র্য এবং শিক্ষার মনোরম পরিবেশের ক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচকতার কথাও ওঠে এসেছে সাম্প্রতিক পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায়।

‘এসেসমেন্ট অব টুরিষ্ট প্রোফাইল এন্ড ট্যুরিজম ক্যারিং ক্যাপাসিটি অব জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস’ শিরোনামে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুজন সহযোগী অধ্যাপক মাশহুরা শাম্মী ও সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং মোহাম্মদ মাহিন নামে এক শিক্ষার্থীর গবেষণায় উল্লেখ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন অনুসারে দৈনিক ৩১ হাজার ৮৩৫ জন দর্শনার্থী বহনের সক্ষমতা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত পর্যটক ও দর্শনার্থীর কারণে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী সজলকে জিজ্ঞস করলে তিনি জানান, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকার বিষয়টি মানুষকে মাইক দিয়ে জানাচ্ছি। কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় সব পয়েন্টে লোক দেয়া সম্ভব হচ্ছে ন । সে সুযোগে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর উত্তরা থেকে ঘুরতে আসা পলাশ বলেন, আমরা মাঝে মাঝে জাহাঙ্গীরনগর ঘুরতে আসি। কিন্তু করোনার কারণে অনেকদিন আসা হয়নি। তবে ভেতরে ঢুকতে চাইলে গেটে বাধা দেয়ায় আমরাসহ অনেকেই পাশের খেলার মাঠ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগলোতে শুক্র-শনিবারে অস্থায়ী দোকানপাট এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের কারণে প্রতিদিনই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

প্রতি বছর শীতের সময় ক্যাম্পাসের অন্যতম আকর্ষণ অতিথি পাখি। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে সবচেয়ে বেশি অতিথি পাখি এলেও এ বছর তার ব্যতিক্রম। অতিথি পাখি আসা লেকগুলোতে মানুষের অতিরিক্ত সমাগমের কারণে জানুয়ারির শুরুতেই লেকগুলো হয়ে পড়েছে পাখি শূন্য। এর কারণ হিসেবে পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, জনাকীর্ণ পরিবেশে অবস্থান করতে ভয় পায় পরিযায়ী পাখি। ডিসেম্বর এর মাঝামাঝিতে দর্শনার্থীর অতিরিক্ত চাপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট লেক সংলগ্ন দোকানগুলোর পিছনে দর্শনার্থী ভিড়ই পাখি চলে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির একাধিক শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছে পিকনিক স্পটে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের নামে প্রতিনিয়তই ঘুরতে আসছে দর্শনার্থীরা। তাদের কোলাহল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, উচ্চ হর্ণ, ঢাকঢোল, গান বাজনাতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ তেমনি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়