এবারের ইউপি নির্বাচনে ভোটের হার ৭২ শতাংশ

আগের সংবাদ

শিশুদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ইন্টারনেট

পরের সংবাদ

পানির দাম বৃদ্ধি নয়, অপচয় রোধ করুন

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আলোচনার মধ্যেই নতুন করে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। এ প্রস্তাবকে যৌক্তিক বললেও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মুহূর্তে কিছুটা আপত্তি জানিয়েছেন বোর্ডের সদস্যদের কেউ কেউ। করোনাকালীন দুঃসময়ে পানির দাম বৃদ্ধি চরম অমানবিক। এমনিতেই ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীবাসীর পানি সরবরাহের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার পানির ওপর ন্যূনতম ভরসা করার কোনো উপায় নেই। পানি দুর্গন্ধযুক্ত। পানিতে ময়লা-আবর্জনা-কেঁচো ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। এই নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, সরকারের নানা উদ্যোগও কম হয়নি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এর মধ্যে পানির দাম বাড়ানো কতটুকু যৌক্তিক- সে প্রশ্ন আসছে সামনে। জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা গত দুই বছরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম বাড়িয়েছে দুবার। আর গত ১৩ বছরে দাম বেড়েছে ১৪ বার। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। ওয়াসার প্রস্তাব অনুযায়ী, আবাসিকে এ দর ২১ টাকা ২৫ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম বর্তমানে ৪২ টাকা। ওয়াসার প্রস্তাব অনুযায়ী, বাণিজ্যিক সংযোগে পানির দাম দাঁড়াবে ৫৮ দশমিক ৮ টাকা। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন পেলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন দর কার্যকর করবে ওয়াসা। রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও এর বিপরীতে ওয়াসার উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ কোটি লিটারের মতো। এর ৭৮ শতাংশ তোলা হয় গভীর নলকূপ দিয়ে, বাকিটা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাঁচটি শোধনাগারে শোধনের মাধ্যমে। যা শোধনের পরও দূষিত ও মানহীনই থাকছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানে বিষাক্ত হয়ে পড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এ দুটি নদীর পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান এতই বেশি যে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য শোধনের সময় মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, এলাম (চুন) ও লাইন (ফিটকিরি)। তারপরও দুর্গন্ধ থাকছে পানিতে। অনেক সময় শোধিত পানি থেকে বের হয় ক্লোরিনের গন্ধ। যদিও ওয়াসার দাবি, শোধিত পানিতে সমস্যা নেই। এদিকে বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে রয়েছে অসংখ্য ফুটো বা লিকেজ। এসব ফুটো দিয়ে বর্জ্য ঢুকছে পাইপলাইনের মধ্যে। একইভাবে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনেও। এ পানি অতিমাত্রায় ফুটানোর পরও পানযোগ্য করতে পারছেন না নগরবাসী। ওই পানি ব্যবহারে চোখ জ্বলা, গা চুলকানোসহ নানা উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। কলেরা হাসপাতালেও বেড়ে যায় রোগীদের ভিড়। আমরা মনে করি, পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার অবকাশ নেই। রাজধানীতে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানির বিকল্প উৎস যেমন সন্ধান ও ব্যবহার করতে হবে তেমনি ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আরো বাড়াতে ও গতিশীল করতে হবে। বিশেষ করে পানির দাম না বাড়িয়ে অপচয় রোধে মনোযোগী হতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়