জেমস-মাইলসের মামলার অভিযোগ গঠন ১১ এপ্রিল

আগের সংবাদ

টানা পাঁচদিন করোনায় ত্রিশের ওপর মৃত্যু, শনাক্ত ১১৫৯৬

পরের সংবাদ

সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ গাজীপুরে, ঢাকা দ্বিতীয়

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২ , ৫:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২ , ৫:২০ অপরাহ্ণ

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) জানায়, দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বায়ুদূষণ।

তারা বলছে, ২০২১ সালে ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ দেখা গেছে গাজীপুরে। ওই জেলায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) বার্ষিক গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ছিল ২৬৩.৫১ মাইক্রোগ্রাম।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা জেলা। যেখানে পিএম ২.৫ বার্ষিক গড়ে ছিল ২৫২.৯৩ মাইক্রোগ্রাম। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। যেখানে বার্ষিক পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি ছিল ২২২.৪৫ মাইক্রোগ্রাম।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘দেশব্যাপী ৬৪ জেলার বায়ুমান সমীক্ষা ২০২১’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ক্যাপস প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

গবেষণায় দেখা যায়, চতুর্থ-দশম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ।

ক্যাপস প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার সর্বমোট ৩ হাজার ১৬৩টি স্থানের গড় অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১০২.৪১ মাইক্রোগ্রাম, যা দৈনিক আদর্শ মানের (৬৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় ১.৫৭ গুণ বেশি।

উল্লেখিত সবচেয়ে দূষিত তিনটি শহরের বায়ুমান ছিল বাংলাদেশের আদর্শমানের চেয়ে প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি।

তিনি বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারকাজ, মেগা প্রকল্প, আশপাশের ইটভাটা, ছোট-বড় কয়েক হাজার শিল্প-কারখানা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং ময়লা-আবর্জনা পোড়ানো-এই প্রধান তিনটি শহর দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।

গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়-উপকূলীয় এলাকার মধ্যে শুধু পটুয়াখালী জেলার বায়ুমান ভালো বায়ুমানের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালী এলাকার বায়ুমান অতিমাত্রার দূষণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অপরদিকে, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, শরীয়তপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, পিরোজপুর, গোপালগঞ্জ, বরগুনা ও যশোর জেলা মধ্যম পর্যায়ের দূষণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ জেলার মধ্যে ১০টি জেলায় বায়ুমান ভালো, ৩৬টি জেলার বায়ুমান মধ্যম মানের এবং ১৮টি জেলার বায়ুমান অতিরিক্ত দূষিত।

ভালো বায়ুমানের জেলাগুলো হলো-কুড়িগ্রাম, নাটোর, জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও মাদারীপুর।

মধ্যম মানের দূষিত বায়ুর জেলাগুলো হলো-যশোর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনা, বরগুনা, খাগড়াছড়ি, সিলেট, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর।

অতিরিক্ত দূষিত বায়ুর জেলাগুলো হলো-গাজীপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, ঠাকুরগাঁও ও জামালপুর।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী নকি, পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী সারওয়ার ইমতিয়াজ হাশমি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল প্রমুখ।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়