‘মজাচ্ছলে’ লুঙ্গি নিয়ে লিখেছিলেন তসলিমা!

আগের সংবাদ

শৃঙ্খলা আনতে সচিবালয়ে প্রবেশ পাস ও কার্ড বদল

পরের সংবাদ

সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই ষষ্ঠ ধাপে ইউপি ভোট শুরু

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২২ , ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২২ , ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ

চলমান সহিংসতার মধ্যেই ষষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন হয়েছে।

আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন জেলার ২১৯টি ইউপিতে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। এই ধাপে ইভিএমে ভোট নেয়া হচ্ছে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে গেছে গতকাল রবিবারই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট নেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, সরবরাহ করা হয়েছে স্যানিটাইজার, টিস্যু পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিটি ইউপিতে মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। টহলে রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল রাত ১২টা থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে। বন্ধ রয়েছে যান চলাচলও। নির্বাচন ঘিরে প্রায় সব ইউপিতে রয়েছে উৎসবের আমেজ। একই সঙ্গে আছে উত্তেজনা-উৎকণ্ঠাও।

বিগত পাঁচটি ধাপে বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় ৯৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের সহিংসতা এ ধাপে যেন না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি ইউপিতে তিনজন বা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরো এক বা দুজন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে আছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার দায়ে প্রার্থীদের শাস্তি বা জরিমানার ব্যবস্থা করবেন। এদিকে নির্বাচনী এলাকায় টহলে রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স। ভোট উপলক্ষে গত শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে মোটরসাইকেল চলাচল, গতকাল থেকে যন্ত্রচালিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসি। ইসির অতিরিক্ত সচিব আশোক কুমার দেবনাথ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে ভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত আদেশটি জারি করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ সেল গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং সেলের প্রধান করা হয়েছে আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদেরকে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, পুলিশের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বিজিবি ও র‌্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক, আনসার ও ভিডিপির মেজর অথবা উপপরিচালক কর্মকর্তা এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অথবা সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা মনিটরিং সেলের কমিটিতে রয়েছেন।

ইসির আদেশে বলা হয়েছে, ভোটের দিন মনিটরিং সেলের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পরিচালিত হবে।

এদিকে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম ধাপ থেকেই সহিংসতা চলছে। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়নে দুই সদস্য পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা শেখ (৫৮)। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আটজন। পুলিশ ১০ জনকে আটক করেছে।

এ নিয়ে গত পাঁচ মাসে নির্বাচনী সংঘাত ও হানাহানিতে দেশে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে। এই দুই ধাপে যথাক্রমে ৩০ ও ২৬ জন নিহত হয়েছেন। প্রথম ধাপে দুই ভাগে নির্বাচন হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগের নির্বাচন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। মূলত তখন থেকেই সারা দেশে নির্বাচন ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতি দেখা দেয়। তৃতীয় ধাপে ৫ জন, চতুর্থ ধাপে ১০, পঞ্চম ধাপে ২৩ এবং ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় চার সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহত চার সাংবাদিক হলেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তানভীর হাসান, নিউজ বাংলার জেলা প্রতিনিধি সোহেল রানা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিং বিডির জেলা প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন তালুকদার ও ঢাকা মেইলের জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান।

এদিকে কয়েক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোয় নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। গত শুক্রবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলায় নয়জন আহত হন। সংঘর্ষে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস এবং নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইষ ইউপি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানান গেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব আমিলাইষ চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই উপজেলার খাগরিয়া ইউপিতেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। যদিও এসব ইউপিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে।

৭ ফেব্রুয়ারি সপ্তম ও ১০ ফেব্রুয়ারি অষ্টম ধাপে ইউপি নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ধাপের ভোট শেষ করবে বর্তমান কে এম নুরুল হুদার কমিশন। এ কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী ধাপের ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করে ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ প্রবাদটি প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নুরুল হুদার কমিশন।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়