সমাপনীতে প্রদর্শিত হলো ‘বীরসা মুন্ডা’

আগের সংবাদ

অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি নাসিম, সাধারণ সম্পাদক রওনক

পরের সংবাদ

মৃত্যুর ২০ বছর পর আপিল নিষ্পত্তি!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ১০:৪২ অপরাহ্ণ

আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে আসামির মৃত্যুর ২০ বছর পর! চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীতে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) আপিলটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় অনুযায়ী অভিযুক্ত আসামি আব্দুস সোবহানকে নিম্ন আদালতের দেয়া ৫ বছরের সাজা বাতিল এবং জরিমানা মওকুফ হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহীর অবিভক্ত চারঘাটের ১ নং বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুস সোবহান। তিনটি হাট-বাজার লিজ দেয়া সাড়ে ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ১৯৮২ সালের ৯ জুন চারঘাট থানায় মামলা করে। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় ওই বছরের ১০ নভেম্বর। বিচার শেষে ১৯৮৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রায় দেন নিম্ন আদালত। রায়ে তাকে ৫ বছরের জেল ও ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন আব্দুস সোবহান (আপিল নং ১৮৬১৯৮৮)। এই আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় ২০০১ সালের ১৬ জুন মারা যান সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান। কিন্তু আপিলে দুদককে পক্ষ করা হয়নি। পরে দুদক এই মামলায় পক্ষ হয়ে শুনানিতে অংশ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে রায় দেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হলে তার বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর ২০ বছর পরেও যে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, এই সংবাদ জানার পর ভালো লাগা ছাড়া আর কী বলার আছে। এই মামলার সর্বশেষ আপডেট বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি কোনো নোটিশও পাননি।

বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মরহুম আব্দুস সোবহানের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২১ সালের জুন মাসে আমার পিতা মারা যান। আমার পিতার নামে যখন মামলা হয় তখন আমার বয়স ছিল ২১ বছরের মতো। আমার বর্তমান বয়স চলছে ৫৭ বছর। কয়েকটি মামলা হয়েছিল তা জানতাম। সেইসব মামলায় পিতা আপিল করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয়বার বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে দায়েরকৃত কয়েকটি মামলায় তার জেল জরিমানা হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সাজা হয়েছিল ৫ বছর। উকিলের পরামর্শে হাইকোর্টে আপিল করে সবোর্চ্চ সাজা খেটে সাড়ে ৪ বছর পর বেরিয়ে আসেন। এর পর সর্বশেষ যে মামলার রায় হয়েছে, এটা সেই মামলা কি-না, সে সম্পর্কে জানা নেই। জানা মতে, অবিভক্ত চারঘাট থানা থাকাকালীন সময়ে মামলাগুলো হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে বর্তমানে ২ ভাই ও ২ বোন বেঁচে আছি। পিতার জীবদ্দশায় ১ ভাই ও ১ বোন মারা যায়। ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মা ফাতেমা খাতুন মারা গেছে। পরে বড় বোন মারা যায়। বেঁচে আছি আমিসহ ছোটভাই মোস্তাফিজুর রহমান, বোন মেহেরনেকা ও ফিরোজা। পিতার জীবদ্দশায় তেমন কোনো জায়গা জমি ছিল না। এর মধ্যে মামলা চালাতে গিয়ে ২৪ কাঠা জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে বাড়ি ভিটার যে ৪০ শতাংশ জমি আছে, সেটিও মায়ের পৈর্তৃক অংশে পাওয়া। ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মহিলা বাণিজ্যিক কলেজ অ্যান্ড ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত। আমি ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করি।

তার দাবি, পিতার নামে টাকা আত্মসাতের যেসব মামলা হয়েছে, তাই যদি হতো তাহলে জায়গা জমি ঘরবাড়ি করে যেতে পারতেন। কিন্ত করতে পারেননি। তবে কীভাবে মামলা হয়েছে তাও বুঝে উঠতে পারেননি।

সরেজমিন তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পিতার আমলে রেখে যাওয়া মাটির ঘরটা এখনও রয়ে গেছে। এই বাড়িতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস সোবহানের ২ ছেলে।

বাজুবাঘা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন জানান, ১৯৮৩ সালে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে মরহুম আব্দুস সোবহান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার জানা মতে, ১৯৮২ সালের দায়েরকৃত মামলায় আপিল করে ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত ভোটে অংশগ্রহণ করে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পরে মামলাজনিত কারণে ১৯৮৪ সালে সাসপেন্ড হয়েছিলেন। পরে আর নির্বাচন করেননি। জানা মতে, মরহুম আব্দুস সোবহান একজন সহজ সরল মানুষ ছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া (মিতি)। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ।

শাহীন আহমেদ জানান, হাইকোর্ট বিভাগ অনেক পুরনো একটি আপিল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন। এ মামলার আপিলকারী ২০ বছরের বেশি সময় আগে মারা গেছেন। আপিলকারী মারা গেলে আইনের বিধান হচ্ছে আপিলটা অ্যাবেট (বাদ) হয়ে যাবে দণ্ড ও সাজার ক্ষেত্রে। কিন্তু জরিমানাটা থেকে যাবে। এখন এই জরিমানার বিষয়ে শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আপিল মঞ্জুর করেছেন। এর মাধ্যমে আপিলের নিষ্পত্তি ঘটল।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারান্নুম রাবেয়া (মিতি) বলেন, যেহেতু আপিল মঞ্জুর হয়েছে, সেহেতু ওই চেয়ারম্যানকে নিম্ন আদালতের দেয়া ৫ বছরের সাজা বাতিল এবং জরিমানা মওকুফ হয়ে গেছে।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়