নির্বাচন কমিশন আইন পাস অনন্য মাইল ফলক: ওবায়দুল কাদের

আগের সংবাদ

ঘরের মাঠে চট্টগ্রামকে হারের স্বাদ দিল খুলনা

পরের সংবাদ

সার্ভার থেকে তথ্য নিয়ে প্রতারণা

ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ৪:৫৬ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ

ব্যাংকের সার্ভার থেকে তথ্য নিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলো। এজন্য দেশের বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যাংক একাউন্ট টার্গেট করা হতো। পরে ভুয়া আরটিজিএস ফর্ম তৈরী করে বদলি করতে চাওয়া ব্যাংকের ম্যানেজারকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতো। এভাবে টাকা ট্রান্সফার করার চেষ্টা করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে চক্রের মূলহোতাসহ ১০ সদস্য।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংকে (ডিবিবিএল) থাকা ওয়ালটন গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা আরটিজিএস ফর্মে টান্সফারের একটি আবেদন আসে। টাকাটি এবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় টান্সফারের আবেদন করা হয়৷ ডিবিবিএল’র বসুন্ধরা শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে ট্রান্সফারের আবেদনটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওয়াল্টন গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে ওয়াল্টন থেকে ব্যাংক ব্যবস্থাপকে বলা হয় তারা টাকা টান্সফারের আবেদন করেননি। পরে টান্সকফারের আবেদনটি স্থগিত করায়।

এ বিষয়ে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা টান্সফার করা চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. জাকির হোসেন (৩৫), ইয়াসিন আলী (৩৪), মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়া (৩৫), আনিছুর রহমান ওরফে সোহান (৪২), মো. দুলাল হোসাইন (৩৫), মো.আসলাম (৫৩), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), জাকির হোসেন (৪৪), মোঃ. আনোয়ার হোসেন ভুইয়া (৫৬) ও মো. নজরুল ইসলাম (৫০)। এর মধ্যে জাকির হোসেন (৩৫), ডাচ বাংলা ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখায় এসএমই সেলস্ টিম ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত আছে।

ভাটারা থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি সকালে চক্রটি ইএফটির মাধ্যমে ডিবিবিএল’র বসুন্ধরা শাখা থেকে ওয়ালটন গ্রুপের একাউন্ট থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিডি লি. নামে একটি কোম্পানির এবি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় থাকা একাউন্টে টান্সফারের জন্য দুইইটি ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ফরম জমা দেয়া হয়। তখন বসুন্ধরা ডিবিবিএল ব্যাংকের ম্যানেজারের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি তিনি ওয়ালটন গ্রুপকে জানান।

তাৎক্ষণিক ওয়ালটন কর্মকর্তারা ব্যাংকে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। পরে তারা যাচাই করে দেখেন আবেদনটি একটি প্রতারক চক্র করেছে। তখন তারা টাকা ট্রান্সফারের আবেদনটি স্থগিত করেন।

আরও জানা যায়, চক্রের মূলহোতা জাকির হোসেন ডিবিবিএল এ চাকরি করার সুবাদে ব্যাংকের সার্ভার থেকে বিভিন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেন। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমান বেশি তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বাক্ষর জাল করে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা টান্সফারের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার পর জাকির ইয়াসিন আলীকে স্বাক্ষর জালিয়াতির কাজ দেন।

পরে ইয়াসিন আলী স্বাক্ষর জাল করে মাহবুব ইশতিয়াক ভূইয়ার পরিচালিত অ্যাকাউন্ট এন আই করপোরেশন, বিডি লি. নামে এবি ব্যাংক লি. মতিঝিল শাখায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে জাল ব্যাংক দলিল তৈরি করে। পরে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অন্য আসামিদের ঠিক করে।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায় যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন দিন যাবৎ ডিবিবিএল এর সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করছিল।

এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো.আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এই প্রতারক চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই চক্রটির কার্যক্রম ব্যাংকের ভিতর থেকে শুরু হয়। এর বাইরে চক্রটির সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। আমরা যখন তাদের গ্রেপ্তার করতে যাই তখন তারা ইউনাইটেড গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ কোটি টাকা ট্রান্সফারের চেষ্টা করছিল।

তিনি বলেন, চক্রটি দুইভাবে কাজ করে। চক্রটির এক অংশ যে গ্রুপ বা ব্যক্তির টাকা তারা ট্রানস্ফার করবে সেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে। অন্যদিকে চক্রটির আরেকটি অংশ যেই শাখায় টাকা ট্রান্সফারের আবেদনটি জমা দিবে সেই শাখার ব্যবস্থাপক কে তাদের পক্ষে আনার জন্য বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ম্যানেজ করে।

চক্রটি এরকম জালিয়াতি আরও করেছি কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়ালটন গ্রুপের টাকাটা তারা ট্রান্সফার করার চেষ্টা করছিল। এছাড়া গ্রেফতারের আগে এরা ইউনাইটেড গ্রুপের থেকে ১২ কোটি টাকা ট্রান্সফারের চেষ্টা করছিল। এছাড়া এর আগে এরা এরকম ট্রান্সফার করেছি কি তা আমরা জানিনা। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।

এরা কি ধরনের অ্যাকাউন্টকে টার্গেট করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরা মূলত বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক বা গ্রুপের একাউন্টকে টার্গেট করে। এমন প্রতিষ্ঠানকে তারা টার্গেট করে যেখান থেকে অ্যামাউন্ট ট্রান্সফার হলে যেন তাড়াতাড়ি বুঝতে না পারে। কেননা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিশাল অঙ্কের টাকা থাকে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়