আট বিভাগীয় শহরে হচ্ছে ক্যান্সার হাসপাতাল

আগের সংবাদ

র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার চিঠি ব্যক্তিগত: ইইউ রাষ্ট্রদূত

পরের সংবাদ

১১ দিন পর খুললো শাবির মূল ফটক ও ভবনগুলোর তালা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২২ , ১:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২ , ১:২০ অপরাহ্ণ

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিগত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তাল ছিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকসহ প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।

তবে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি। ১১দিন পর খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটক ও তালাবদ্ধ করে রাখা প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবনগুলো।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকে রড দিতে বন্ধ করে বালু ভর্তি বস্তা দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে রাখা অবস্থা খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

মুল ফটকে কর্মরত এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, রাতে গেট থেকে সবকিছু সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রড কেটে মুল ফটক উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ পরাণ হলের তালা খুলে দেওয়া হয়। ছবি: ভোরের কাগজ

এদিকে প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবনে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ফটকের তালা খুলে দেওয়া হলে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তবে ভিসির বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে আগের মতোই। এছাড়া প্রধান ফটকের সামনেও পুলিশ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসন থেকে যখন বলা হবে তখন ক্যাম্পাস ছেড়ে পুলিশ, এমনটা জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

গতকাল বুধবার বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক অনশন ভাঙান শিক্ষার্থীদের। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিনদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনে পুলিশি হামলা হলে তার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৬ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, আমরণ অনশন, মশাল মিছিল, উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ, কাফন পরিধান করে প্রতীকী লাশ নিয়ে মিছিল, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা।

তবে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহায়মিনুল বাসার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়া হবে। আমরা কোনো সহিংস আন্দোলন করতে চাই না। তাই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

টিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়