র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার চিঠি ব্যক্তিগত: ইইউ রাষ্ট্রদূত

আগের সংবাদ

দক্ষিণী রীতিতে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন মৌনী রায়

পরের সংবাদ

ঢাবির গেস্ট রুমে শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২২ , ১:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২ , ১:২২ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এক অসুস্থ শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ওই হলের ইমিডিয়েট সিনিয়র ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয় বলে জানা যায়।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাত দশটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আখতার হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছিরকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্ত ৬ জনই ছাত্রলীগ কর্মী। অভিযুক্তরা হলেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কামরুজ্জামান রাজু, ইতিহাস বিভাগের হৃদয় আহমেদ কাজল, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইয়ামিম ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ওমর ফারুক শুভ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাইফুল ইসলাম ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সাইফুল ইসলাম রোহান। তারা ৬ জনেই ২০১৯-২০ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী আখতার হোসেন ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুর জেলায়।

জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (আখতার) কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। সে শুধু শারীরিকভাবে নয় মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত ছিল। কারণ এক সপ্তাহ আগে তার বাবা ব্রেন স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার বাবা একজন দিনমজুর। অসুস্থতার মধ্যেও তাকে রাত দশটার দিকে গেস্টরুমে ডাকা হয়। তখন ভুক্তভোগীকে (আখতার) অভিযুক্তরা বলে এ তুই গতকাল গেস্ট রুমে ছিলি না কেন। তখন ভুক্তভোগী (আখতার) বলে, ভাই, আমি খুব অসুস্থ কয়েকদিন থেকে। এছাড়া আমার বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এ কথা বলার পর তাকে অভিযুক্তরা গালাগালি করে, অশ্লীল গালাগালির পর বলা হয়, তুই ১০ মিনিট উপরে লাইটের দিকে তাকিয়ে থাকবি। এরপর কয়েক মিনিট তাকানোর পর আখতার অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করায় তার সহপাঠীরা। চিকিৎসা নেয়ার পর তাকে ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা বলে, এ তোরে যে আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিয়ে আসছিলাম এটা কাউকেই বলবি না।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, আমি খুব ভয়ে আছি। এখন যদি আমাকে হল থেকে বের করে দেয়। আমাকে বলতে নিষেধ করেছে তারা (অভিযুক্তরা)।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের হল কমিটির পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুছ বলেন, ঘটনাটি আমি মাত্র জেনেছি। এটা আসলে অপ্রত্যাশিত। আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।

রবিউল ইসলাম রানা বলেন, এই বিষয়ে শুনলাম। এটা আসলে ঠিক করেনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির বলেন, আমি শুনেছি। এটা আসলেই দুঃখজনক। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই হলের আবাসিক শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সানাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।এই কমিটিতে সদস্যরা হলেন-জাহিদুল ইসলাম সানা, ড. কাজী শাহেদুল হালীম ও বেল্লাল আহমেদ ভূঁইয়া।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়