শাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাবির শিক্ষকদের সংহতি

আগের সংবাদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর রুপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন

পরের সংবাদ

জুয়েলারিখাতে গোল্ড ব্যাংক একটি আইকনিক চিন্তা: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২২ , ১০:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২২ , ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন- আমাদের দেশে একটা গোল্ড ব্যাংক দরকার। দারুন একটা আইকনিক চিন্তা থেকে এটা এসেছে। এটা ঠিক যে বাংলাদেশের যারা স্বর্ণকার, স্বর্ণ শিল্পী যারা, তাদের হাতের কাজ অনেক সুন্দর। এক সময় মসলিন যেমন বিখ্যাত ছিল। সেদিন সংসদে এটাও আলোচনা হয়েছে যে- বাংলাদেশে যারা স্বর্ণের কাজ করে, তাদের হাত অনেক সুন্দর। যা দিয়ে আর্ন্তজাতিক বাজারেও খ্যাতি লাভ করা সম্ভব। এই একটা শিল্পে সত্যিকারের ভ্যালূ অ্যাডেড অনেক অনেক বেশি টাকা। অল্প একটু সোনা গেলেই তো লক্ষ লক্ষ টাকা। ভ্যালু অ্যাডেড জিনিস আছে এটাতে আমাদের নজর দেওয়া দরকার। অসংখ্য হাতের কাজ করা মানুষ রয়েছে। যারা শত শত বছর ধরে উত্তরাধিকার সুত্রে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমাদের ভালো একটা স্কপ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে, রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল ১৯-এ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি- বাজুসের নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দেশ বরেণ্য শিল্প উদ্যোক্তা ও দেশের শীর্ষ শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। সভাপতিত্ব করেন বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর। সঞ্চালনা করেন বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়ালা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন- দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হাতের কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পৌছে যাবে। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের যে যোগ্যতা পরমপরতা দিয়ে সফল হবো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতিরি উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করি। কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আপনাদের মুখ উজ্জল হোক। বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর একটা কথা বলেছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসতে। কিন্তু এই মুহুর্তে আমরা বসতে পারছি না। কিন্তু কাগজপত্র আমরা যেকোনো ভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছাতে পারি। তারপরে যখন সময় হবে, সুদিন ফিরবে সবাই সবার সামনে বসতে পারবো তখন আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসবো। বললেই তিনি রাজি হয়ে যাবেন।

ওই অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন- বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির আমলে প্রথম গোল্ড রিফাইনারীর অনুমোদন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী সৃষ্টি। টিপু মুনশির মত একজন ব্যবসায়ী বাণিজ্য মন্ত্রী না হলে কারও মাথায় আসতো না যে দেশে একটি গোল্ড রিফাইনারী দরকার। আমি মনে করি দেশের ঘরে ঘরে রিফাইনারী হবে। বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা পৃথিবীর মধ্যে বিখ্যাত। পুরো ভারত বর্ষে বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পীরা কাজ করে। আমাদের জুয়েলারী শিল্প দিয়ে গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যেতে পারবো। তিনি বলেন- আমরা শুধুমাত্র চায়না ও ইউরোপে এক্সপোর্ট করি, আমাদের টাকা রাখার জায়গা থাকবে না। গার্মেন্টেসের দাম কম, স্বর্ণের প্রচুর দাম। এটার ভ্যালু অ্যাডিশন প্রচুর। কিছু কিছু স্বর্ণের ভ্যালু অ্যাডিশন ৩০, ৪০ ও ৫০ শতাংশ। যেখানে আমাদের গার্মেন্টেসের ভ্যালু অ্যাডিশন ৫,৭ ও ৮ শতাংশ।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন- বাংলাদেশে রিফাইনারী প্রতিষ্ঠার পর এখন থেকে রপ্তানী করেন। সবার ঘরে ঘরে ইন্ড্রাস্ট্রি করেন। আগামীতে বাংলাদেশ গর্ব করে বলতে পারবে পৃথিবীর বাংলাদেশেও একটি গোল্ড রিফাইনারী আছে। ইটস এ প্রেস্ট্রিজ। আমি মনে করি গোল্ড রিফাইনারী যুগান্তকারী। তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে বাংলাদেশে গোল্ড একচেঞ্জ দরকার, গোল্ড ব্যাংক দরকার। আমি নিশ্চিত বাণিজ্য মন্ত্রীসহ জুয়েলার্স মালিকরা যখন বলবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী এক সেকেন্ডও দেরি করবেন না। হবে না কেন সবকিছুর ব্যাংক রয়েছে। গোল্ড ব্যাংক কেন হবে না। গোল্ড একচেঞ্জ কেন হবে না। আপনারা শুধু প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করেন।

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন- আমরা জুয়েলারী সেক্টরে আরও উন্নতি করতে চাই। আমি বাণিজ্য মন্ত্রী এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। জুয়েলারী শিল্পে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দুর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি যৌথ মিটিং দেওয়ার অনুরোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রী থাকলে জুয়েলারী ভাইদের যত সমস্যা আছে বসে সমাধান করতে পারবো। সমস্যা শুধু একটা নয়, সমস্যা অনেকগুলো আছে। একটা সময় মানুষ স্বর্ণ বন্ধুক রেখে ঋণ নিতে পারতো। ১৯৮০ সাল থেকে এই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটার জন্য ভালো একটা পলিসি দরকার।

বাজুস প্রেসিডেন্ট বলেন- আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো বাজুসের মাধ্যমে একটি গোল্ড ব্যাংক বা গোল্ড একচেঞ্জ পলিসি করা হোক। আজকে পেপার পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, স্বর্ণ চোরাচালান ও পাচার হচ্ছে। এগুলো আসলে কতটুকু সত্য। সত্যটা হয়তো আমরা আসলেই লুকিয়ে গেছি। লুকিয়ে যাওয়্রা কারণ হচ্ছে পরিকল্পিত কোন নির্দেশনা নাই আমাদের। তো নির্দেশনার জন্য একটি ইনস্টিটিউট দরকার। যেখানে ডেইলি দাম নির্ধারণ হবে। গোল্ড ব্যাংক দরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা দরকার। অর্থমন্ত্রণালয়ের সহায়তা দরকার। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ না করলে এই সেক্টরের উন্নতি করা সম্ভব নয়।

বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর বলেন- এই সেক্টরের উন্নতির জন্য আমাদের জুয়েলারী ভাইদের কাছে আমি অনুরোধ করবো। আপনারা সবাই আস্তে আস্তে জুয়েলারী ফ্যাক্টরির দিকে নজর দেন। সবাই ট্রেডিং করেছেন এখন ইন্ড্রস্ট্রি করার সময় এসেছে। আমরা শুধু আমদানী করবো কেন রপ্তানির দিকে যেতে হবে। আমি যখন ভারতে গেলাম সেখানে প্রচুর বাঙালী ওয়ার্কার দেখলাম। তারা আমাকে বলল স্যার বাংলাদেশে একটা ফ্যাক্টরি করেন। যেখানে আমরা এসে কাজ করতে পারি। কারণ কেউ বিদেশে গিয়ে কাজ করতে চায় না, যদি বাংলাদেশে এই কাজ থাকে। আমরা আশা করবো আপনারা সবাই একটা একটা করে ইন্ড্রাষ্ট্রি করার পরিকল্পনা করেন। আমদানির চিন্তা না করে রপ্তানি করে দেশকে সমৃদ্ধশালী করেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শক্তিশালী করেনে। বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ আগারওয়ালা বলেন, বাজুসের প্রধান কার্যালটি ছিলো ৫০০ বর্গফুটের। আজ তার আয়তন ১০ হাজার বর্গফুট। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান বাজুস সভাপতি সায়মে সোবহান আনভীরের কল্যানে। আমাদের বিশ্বাস উনার নেতৃত্বেই বাজুস অনেকদুর এগিয়ে যাবে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়