শাঁওলি মিত্র : স্মৃতিতে, কীর্তিতে

আগের সংবাদ

তৃতীয় ঢেউয়ের চূড়া কোথায়

পরের সংবাদ

সড়কে লাশের মিছিল থামছে না!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২২ , ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২২ , ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সড়কে লাশের মিছিল কে থামাবে? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দফায় দফায় নির্দেশ জারি, নতুন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ সত্ত্বেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৃথক পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইলে বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশা আরোহী একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রামপুরায় পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে এক অটোচালক, নওগাঁ জেলার পতœীতলায় ট্রাক্টরচাপায় নারীসহ দুই ভ্যানযাত্রী, মাদারীপুরের ধুরাইলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই ভাই, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অটোরিকশার ধাক্কায় এক বাইসাইকেল আরোহী, নীলফামারীর সৈয়দপুরের বাইপাস সড়কে মাইক্রোবাস চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আরো এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (এআরআই) গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের বেপরোয়া গতি। কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে ছোট যানবাহন বন্ধ ও বেপরোয়া যানবাহন চলাচল বন্ধে সাফল্য নেই। এখনো দেশের সড়ক-মহাসড়কে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ১০ লাখ নছিমন-করিমন-ইজিবাইক। অবাধে আমদানি হচ্ছে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক। দেশব্যাপী অন্তত ৫ লাখ ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, হিউম্যান হলার অবাধে চলছে। নিবন্ধনবিহীন কয়েক লাখ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে সড়ক-মহাসড়কে। এসব যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান উৎস। দুর্ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজিরও তেমন নেই। যার ফলে চালকরা ইচ্ছামতো গাড়ি চালান। হাই রিস্ক নিয়ে ওভারটেক করেন। এছাড়া চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলাচলের অবস্থা নেই। কাজেই মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তায় হাঁটছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বাসে সিট বেল্ট বাঁধার ব্যবস্থা, হেলমেট ব্যবহার কম থাকায় ছোটখাটো দুর্ঘটনাতেও প্রাণহানি ঘটছে। ইদানীং মোবাইল ফোন কানে রেখে গাড়ি চালানো যেন ফ্যাশন অনেক চালকের কাছে। যদিও এ কাজ থেকে বিরত রাখতে আইন আছে। কিন্তু সে আইনের ব্যবহার হয় না। এ কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা, ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও তা দীর্ঘদিনেও পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। পরের বছর নভেম্বরে নতুন আইনটির প্রয়োগ শুরু হলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এতে সরকার আইনটি সংশোধনের আশ্বাস দেয়। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক পুলিশ সীমিত আকারে আইনের প্রয়োগ করলেও সারাদেশে অনেকটা স্থবির অবস্থা রয়েছে। এখনো হয়নি নতুন আইনের বিধিমালা। হয়নি সংশোধনও। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এজন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়