সড়কে লাশের মিছিল থামছে না!

আগের সংবাদ

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পরীমনির গায়ে হলুদ-বিয়ের অনুষ্ঠান!

পরের সংবাদ

তৃতীয় ঢেউয়ের চূড়া কোথায়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২২ , ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২২ , ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখিতা আরো ৩ সপ্তাহ > বিধিনিষেধ ফসকা গেরো > নমুনা পরীক্ষায় ভোগান্তি

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। এই প্রবণতাকে অনেকে করোনার ‘তৃতীয় ঢেউ’ বলে মনে করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করছে সরকার। তাতেও সহজেই সামাল দেয়া যাবে- এমনটি মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ হেলায় হাতছাড়া করেছে সরকার। গত দুই বছর ধরে চলা মহামারি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার অভ্যস্থতা এখনো তৈরি হয়নি নীতিনির্ধারকদের। এ কারণেই পুরো বিষয়টি লেজেগোবরে হয়ে গেছে।

দেশে গত দুই সপ্তাহ ধরেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার অস্বাভাবিক দ্রুত বাড়ছে। আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি তথ্যেই প্রতিদিনই যেভাবে রোগী ও সংক্রমণ বাড়ার উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে- তাতে আগের রেকর্ড ভাঙতে খুব বেশি একটা সময় লাগবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরো অন্তত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সরকার বলছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিধিনিষেধ জারি করলেই হবে না, সেটি কার্যকরও করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও মাঠপর্যায়ে এসবের যে কোনো সুফলই মিলছে না- তা সংক্রমণ বাড়ার চিত্র থেকেই স্পষ্ট। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে হাসপাতালেও রোগী বাড়ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেড এক তৃতীয়াংশ ভরে গেছে। এভাবে বাড়লে ঢাকার হাসপাতালে আর বেড পাওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা প্রতিবারই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। যে কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। এবারো সেই একই ঘটনা ঘটেছে। তবে সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি আরো ২ থেকে ৩ সপ্তাহ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই সময়ে কঠোরভাবে বিধিনিষেধগুলো মানলে পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে। অন্যাথায় শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরই নয় পুরো দেশের ওপরই এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

এবারো ট্রেন মিস : সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যে সব উদ্যোগ আগে থেকে নেয়া উচিত ছিল তা নেয়া হয়েছে পরে। এবারো সেই একই চিত্র দেখা গেছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবহন মালিক এবং ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে বেশ ছাড় দিয়েই বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। ওমিক্রন নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রবেশপথগুলো বন্ধ করার পরমার্শ বিশেষজ্ঞরা দিয়ে এলেও সেটি খুব একটা কানে তোলেনি সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে যতটা মনোযোগ ছিল অন্যক্ষেত্রে তেমনটা ছিল না। ফলে সংক্রমণ বেড়েই চলছে।

করোনা পরীক্ষা করাতে এখনো ভোগান্তি : কোভিড পরীক্ষার পরিসংখ্যানে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম। দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি বুঝতে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর কথা বারবারই বলে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। আর এর জন্য পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ ছিল তাদের। কিন্তু এখনো অনেকেই ভোগান্তির ভয়ে পরীক্ষা করাতে চান না। আবার অনেকে ফেরতও আসছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষার ফি কম হলেও দুর্ভোগ বেশি। আবার বেসরকারিতে ফি অনেক বেশি। দেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সারাদেশে মোট ৮৫৭টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে; এর মধ্যে আরটি পিসিআর ল্যাব আছে ১৫৪টি, জিন এক্সপার্ট ল্যাব আছে ৫৭টি আর র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষার সুবিধা আছে ১০১ টিতে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারি শুরুর দিকে করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হলেও পরে পরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তেই সাধারণ মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। আর বেসরকারি খাতে এত উচ্চমূল্য দিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে নমুনা পরীক্ষা করানো সম্ভব নয়। ফলে মানুষ পরীক্ষা করানো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অন্য দেশ যখন বেশি সংখ্যক পরীক্ষা করছে আমাদের দেশের মানুষ তাতে বিমুখ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পরামর্শক কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল ভোরের কাগজকে বলেন, রোগী বাড়ছে। বাড়ছে শনাক্তের হারও। নমুনা পরীক্ষা বাড়ালে শনাক্তের হার আরো বাড়ত। এখন জ্যামিতিক হারে রোগী বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে সময় নেবে না।

স্বাস্থ্যবিধি শুভঙ্ককরের ফাঁকি : ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করলেও বাস্তবে এসব নির্দেশনা কেউই মানছে না। বলা যায় এসব নির্দেশনা দেয়া পর্যন্তই; বাস্তবে সেগুলো অকার্যকর। আর হাতের কাছে রক্ষাকবচ থাকলেও সেই রক্ষাকবচকে (সঠিক নিয়েমে মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানা, সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া) আমরা অবহেলা করছি। এই সুযোগে সংক্রমণের হার হু হু করে বাড়ছে। সংক্রমণ বাড়লেও বিধিনিষেধের ফসকা গেরো আর সেগুলো মানতে মানুষের অনীহা দেখে মনে হচ্ছে, বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তরগুলো হাল ছেড়ে দিয়েছে।

এদিকে ২০২০ সালে ২৪ নভেম্বর করোনার সংক্রমণরোধে সরকার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ বলে নির্দেশনা জারি করে। এরপর ‘গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিনোদনকেন্দ্র, মার্কেটে এমন নির্দেশনা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব কিছু খোলা রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস আদালত চালানো, টিকা কার্ড দেখিয়ে অনুষ্ঠানে, রেস্তোরাঁ হোটেলে যাতায়াতের মতো যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেগুলো কতটা বাস্তব সম্মত? জনস্বাস্থ্যর বিষয়টির চেয়ে আমরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দিকটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কর্মপরিকল্পনা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। আর বলা হচ্ছে মানুষ কথা শোনে না। মানুষ কথা না শুনলে তাকে শোনানোর দায়িত্বটি কার?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, বিধিনিষেধ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করছে সরকার। কিন্তু সেটি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা দেখা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে মানুষ মানছে না। কিন্তু মানুষকে মানতে বাধ্য করতে হবে। কঠোর নজরদারি না থাকলে এসব প্রজ্ঞাপন কাগুজেই থেকে যাবে। তবে ব্যক্তির সচেতনতাও জরুরি।

সমন্বয়ের অভাব ঘুচছে না : শুরু থেকেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের মধ্যে যে সমন্বয়নহীনতার কথা বলা হচ্ছিল সেটি গত দুই বছরেও ঘোচেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের দেয়া নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের তদারকির কাজটি খুব একটা হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানানোর দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের নয়। এখানে আরো অনেক সরকারি সংস্থার কাজ রয়েছে। মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করার দায়িত্ব স্বাস্থ্যের নয়। যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাদের কাজটা করতে হবে। একটা মহামারির সময় যদি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্ব পালন না করে তাহলে মহামারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।

কাজে লাগানো যায়নি টিকা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা : অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে পর্যায়ক্রমে দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও ওই একই কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য সরকারের। সেই হিসাবে মোট সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। টিকা দেয়ার এই লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি এবং কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাযজ্ঞ পরিচালনায় বাংলাদেশের যথেষ্ট সক্ষমতা এবং দক্ষ জনবল থাকার পরও সেটি যথার্থ কাজে লাগানো যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ ও মেডিকেল অ্যান্থপলোজিস্ট ডা. চিন্ময় দাস ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দেশে ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি) কর্মসূচি বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয়। টিকা কার্যক্রম পরিচালনার মতো আমাদের যথেষ্ট দক্ষ জনবল আছে। কিন্তু আমরা সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারিনি। তাই কেন্দ্রগুলোতে অব্যবস্থাপনার চিত্র আমরা দেখেছি।

হার্ড ইমিউনিটি কত দূর : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করলেও সেগুলো কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়। ফলে সরকার ‘হার্ড ইমিউনিটি’র পথে হাঁটছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট একটি জনগোষ্ঠী টিকা নিয়ে কিংবা রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর যখন তাদের দেহে কোনো সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়ে যায়, তখন পরোক্ষভাবে ওই পুরো জনগোষ্ঠী রোগটি থেকে সুরক্ষিত থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একেই বলা হয় ‘হার্ড ইমিউনিটি’।

করোনাকে প্রতিহত করতে টিকার পাশাপাশি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এমনটাই আশা করেছিলেন গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। এই আশার ওপরই ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের পথেই হেঁটেছিল। কিন্তু ডেল্টার পর ওমিক্রনের তাণ্ডব সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছিল, করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে হলে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ড ইমিউনিটির এই শতাংশের হিসাব নির্ভর করে ওই ভাইরাসটির সংক্রমণের সক্ষমতার ওপর। যেমন হামের হার্ড ইমিউনিটির জন্য ৯৫ এবং পোলিওর ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি সংস্থাটির মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. অলিভিয়ের লে পোলেইন বলেছেন, মহামারিতে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা বলছে, করোনার সংক্রমণ রোধে হার্ড ইমিউনিটির তাত্ত্বিক ধারণা সম্ভবত অবাস্তব।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (সংক্রমক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে অথবা তাদের সংক্রমিত হতে হবে। সংক্রমিত হওয়ার পর তাদের শরীরে পর্যাপ্ত এন্টিবডির উপস্থিতি থাকতে হবে। আমাদের টিকা কর্মসূচিতে যথেষ্ট উন্নতি করেছি। টিকা কর্মসূচি সফলভাবে চালিয়ে যেতে পারলে হার্ড ইমিউনিটি অবশ্যই অর্জিত হবে।

ওমিক্রনও হতে পারে ভয়ংকর : ওমিক্রন ডেল্টার মতো ভয়ংকর নয়- এই ধারণা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ১৭ জানুয়ারি ভার্চুয়ালি দেশের করোনা পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলম। সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওমিক্রণে সংক্রমিত হলে বড় ধরনের সমস্যা হয় না। ক্ষতি কম হয়- এমন ধারণা অনেকের মাঝেই তৈরি হয়েছে। এটি সত্য নয়। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ওমিক্রন ও ডেল্টা এই দুই ধরন দিয়েই মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে- তাই কে কোন ধরন দিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন তা জিনোম সিকোয়েন্সিং না করলে বোঝা যাবে না। তাই সতর্কতার বিকল্প নেই। টিকা নেয়ায় হয়তো গুরুতর অসুস্থতা হবে না। কিন্তু যাদের বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনও বিপজ্জনক হতে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়