আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত শেকৃবির পরীক্ষা

আগের সংবাদ

শাবিপ্রবিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা

পরের সংবাদ

বিপন্ন নাগরিক জীবন!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২২ , ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বেপরোয়া পরিবহন চালকদের হাতে দিন দিন বিপন্ন হয়ে উঠছে নাগরিক জীবন। কে লাগাম টানবে এসব বেপরোয়া গাড়িচালক ও শ্রমিকদের? যাত্রীবাহী বাসের অব্যাহত নৈরাজ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঝরল আরো দুই প্রাণ। এর মধ্যে বাস ভাড়া নিয়ে বচসার জেরে ইরফান আহমেদ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ডেমরার শারুলিয়া থেকে ‘গ্রিন বাংলা’ বাসে চড়ে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় গুলিস্তানসংলগ্ন জয়কালী মন্দিরের কাছে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। একই দিন মগবাজারে আজমেরী গেøারী পরিবহনের তিন বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে প্রাণ যায় ১৪ বছর বয়সি রাকিব নামে এক কিশোরের। দুটি ঘটনাই নগরীতে যাত্রীবাসী বাসের অব্যাহত নৈরাজ্যের প্রতীকী হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস দুর্ঘটনায় কেউ হাত কিংবা পা হারাচ্ছেন আবার কারো প্রাণ যাচ্ছে। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা বাড়লেও চালকদের সতর্কতা নেই বললে চলে। বিশেষ করে রাজধানীতে বাস চলাচল বিপজ্জনক। রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া জরুরি। জানা গেছে, ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে বাসের সহকারী ইরফানকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ইরফান নামে ওই যাত্রী পরিবহন সহকারীর সঙ্গে যেমন আচরণই করে থাকুন, এর প্রতিবাদে সে তাকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে দেয়ার মতো অপরাধ করতে পারে না। যেহেতু এ ধরনের নির্মম ঘটনা বারবার ঘটছে, তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। বুয়েটের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকায় যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে তার ৯০ শতাংশ হয় চালকের দোষে। এছাড়া বেশিরভাগ দুর্ঘটনার মূলে রয়েছে একটি বাসের সঙ্গে অপর বাসের প্রতিযোগিতা। সাধারণত বেশিসংখ্যক যাত্রী তোলার জন্য চালকরা এ প্রতিযোগিতা করেন। অর্থ উপার্জনের দৃঢ় মনোভাব কাজ করে বাসমালিক ও চালকদের মধ্যে। এর কারণে যাত্রী তোলার জন্য একটি বাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। এমন দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা। বেতনভুক্ত চালক দিয়ে লোকাল (বাস) গাড়ি চালালে মালিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক তাদের বাস-মিনিবাস চালককে চুক্তিতে চালাতে দিচ্ছে। চুক্তির কারণেই চালকরা বেপরোয়া। কারণ একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাবে সে-ই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ মরণ রেস দেখা যায়। আর এ প্রতিযোগিতার কারণেই পরিণতি হয় দুর্ঘটনা। সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র এক কথায় ভয়াবহ। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন কোনো বিষয় নয়। এজন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। সড়কপথে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্ঘটনার হার অনেক কমে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়