শিক্ষানবিশি শেষে ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ৩৯ হাজার টাকা

আগের সংবাদ

ই-ডেটাবেজে নিবন্ধিত হলে সহজে সেবা পাবেন এসএমই উদ্যোক্তারা

পরের সংবাদ

নাগরিক সমাজের মতামত ছাড়া ইসি গঠন আইন ব্যর্থ হবে: টিআইবি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২২ , ৮:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২২ , ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২ প্রণয়নে সরকারের আকস্মিক পদক্ষেপ ইতিবাচক হলেও প্রস্তাবিত খসড়ায় নাগরিক সমাজ ও অংশীজনদের সুপারিশ আমলে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে যে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে গড়পরতা সাধারণ কিছু মানদন্ডের বাইরে তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিরূপনে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকা অগ্রহণযোগ্য বলে মত সংস্থাটির। এর ফলে এই আইনের পেছনে যে সাংবিধানিক চেতনা অন্তর্নিহিত এবং একে নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা, তা পূরণে খসড়াটিকে ব্যর্থ হিসেবে মনে করছে টিআইবি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর সাংবিধানিক অতিগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এমন একটি আইন ‘যেনতেন’ভাবে পাশের একটি প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে বিভিন্ন সময় নাগরিক সমাজ এবং অংশীজনদের পক্ষ থেকে দেয়া সুপারিশমালার অধিকাংশই আমলে নেয়া হয়নি। নির্ভরযোগ্য অনানুষ্ঠানিক সূত্রে প্রাপ্ত খসড়াটিতে বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা নির্ধারণে যে তিনটি ধারা প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে তাদের সততা, ন্যায়পরায়নতা, নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা, সৎসাহস ও গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে কোনো ধরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। নারী সদস্য অন্তর্ভূক্তির কোনো বিধানও রাখা হয়নি। এমনকি অযোগ্যতা নির্ধারণে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানে ২ বছরের কম যেকোন মেয়াদে ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হলেও কমিশনার হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে! এছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে তাদের দলনিরপেক্ষতা তথা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা ঋণখেলাপী ও দূর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতা ইত্যাদি নিরূপন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই! এমনকি গুরুতর অসঙ্গতির প্রেক্ষিতে তাদের অপসারণেও সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই, যা হতাশাজনক।

অনুসন্ধান কমিটিতে যে দু’জন নাগরিক প্রতিনিধির বিধান রাখা হয়েছে তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি কি হবে, কমিটির কর্মপদ্ধতি কিরূপ হবে, কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত নামসমূহ প্রকাশ করা হবে কিনা- এমন প্রশ্ন তুলে নির্বাহী পরিচালক বলেন, খসড়া আইন অনুযায়ী অনুসন্ধান কমিটি প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দু’জন ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করার কথা বলা হলেও, সেই নামসমূহ নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বেই প্রকাশ করার কোনো বিধান রাখা হয়নি। অন্যদিকে অনুসন্ধান কমিটিতে প্রস্তাবিত দু’জন নাগরিক প্রতিনিধির যোগ্যতার বিবরণ যেমন নেই, তেমনি কোনো নারী সদস্য রাখার বিধানও অন্তর্ভূক্ত নয়। এসব সমাধান না করেই খসড়া চূড়ান্ত হলে, এ আইনের পেছনে যে সাংবিধানিক চেতনা অন্তর্নিহিত এবং একে নিয়ে জনগণের যে প্রত্যাশা, তার বাস্তবায়ন অসম্ভব হবে।

পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাইসহ নাগরিক সমাজ তথা সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে, খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করার দাবি জানান ইফতেখারুজ্জামান। অন্যথায় এই আইনের সুফল যেমন অধরা থাকবে তেমনি এর গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকরিতা নিয়েও নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে না বলে মত দেন তিনি।

রি-এমআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়