তৈমুর আলম খন্দকার ও এ টি এম কামালকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

আগের সংবাদ

শক্তিশালী আর্থিক পুনরুদ্ধারের পথে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

পাঠ্যবইয়ে ভুল রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

রিদয় কুমার মিত্র

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২২ , ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২২ , ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পাঠ্যবই সৃজনশীলতা, গতিশীলতা ও মনুষ্যত্ব বোধের প্রতীক। শুধু তাই নয়, পাঠ্যবইকে বলা হয় প্রাথমিক জ্ঞানের ভাণ্ডার। শিক্ষার্থীরা অন্য বই পড়ুক আর না পড়ুক পাঠ্যবই তাদের পড়তেই হবে। তাই পাঠ্যবইকে বলা হয় সৃজনশীলতার প্রতীক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে প্রতিবারই পাঠ্যবইয়ে অংসখ্য ভুল লক্ষ করা যায়। যা কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
এই নতুন বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই বিতরণ করেছে সরকার। এসব বইয়ের ভেতরে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যগত ও বানানের ভুল।
সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ১০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে- ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এ নির্বাচন ছিল শুধু পূর্ব পাকিস্তানের।’ কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সব প্রদেশে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল।
৬ষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে শিরোনাম-মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি : ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এক সাহসী, ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতার ‘আবির্ভাব’ হয়। অথচ প্রকৃত সত্য এ যে, বঙ্গবন্ধু হঠাৎ কোনো ‘আবির্ভূত’ নেতা নন। তিনি তিলে তিলে বাঙালি জাতির নেতা হয়ে উঠেছেন।
অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মাইল’-এর স্থলে ‘কিলোমিটার’ হবে।
নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি’ এর স্থলে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি’ হবে। ২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘প্রেসিডেন্ট ভবন’ এর স্থলে ‘বঙ্গভবন’ হবে। এছাড়াও নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ের ১৭৪ পৃষ্ঠায় ৯ নম্বর লাইনে আছে দলীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু হবে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৮৭ পৃষ্ঠায় শেখ মুজিবুর রহমানকে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি বলা হয়েছে। একই বইয়ের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের লাইনটিও ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এনসিটিবি এখন কীভাবে এই ভুল শুধরাবে? এর দায় এনসিটিবিকেই নিতে হবে। অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ তার হাতেই। সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা খরচ করে যাতে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে বই বিতরণ করতে পারে। শুধু যথাযথ তদারকির অভাবে পাঠ্যবইয়ে এত ভুল লক্ষ করা যায়। এনসিটিবি কি পারবে এই ভুল সংশোধন করে নতুন করে, শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করতে? পারবে না তো। এমনিতে আমাদের দেশে কর্মমুখী শিক্ষা নেই বললেই চলে, তার মধ্যে যদি পাঠ্যবই ভুলে ভরা থাকে, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সবার ভরসা উঠে যাবে। তাই বই ছাপানোর আগে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের দিয়ে বারবার বই পরীক্ষা করে নিতে হবে। কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে এক হাঁড়ি দুধের ভেতর যদি এক ফোঁটা ময়লাও পড়ে, তাহলে পুরো দুধটাই নষ্ট হয়ে যায়। এনসিটিবির এই ভুলও ঠিক সেরকম। যা বছরের প্রথম দিবসে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়ার সরকারের অসাধারণ সাফল্যকে মøান করে দিয়েছে। উন্নত জাতি ও রাষ্ট্র গড়তে হলে মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হলে পাঠ্যবইয়ে ভুল থাকা যাবে না, এতে দেশের সম্মান বিঘিœত হয়। শুধু তাই নয়, পুরো জাতি হতাশার দিকে চলে যায়। জাতি ভুল শিখে অন্ধকারে ধাবিত হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তাই বলে ভুলভাল শিক্ষা নয়। আর জাতির মেরুদণ্ড সোজা করতে হলে পাঠ্যবই গুণগত ও মানসম্মত হতে হবে। যে বইয়ে জাতির পিতার সম্পর্কে ভুল থাকে, সেই বই আর যাই হোক দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে পারবে না। এতে জাতি সফলতার স্বর্ণ মুকুট মাথায় পরিধান করার আগেই পা পিছলে পড়ে যাবে। আপনি বলতেই পারেন, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে, আমিও মানছি। কিন্তু আপনারা তো শিক্ষা গ্রহণ করলেন না। বারবার ভুল করছেন। মনে রাখতে হবে শিক্ষার্থীরাই জাতির মেধাকুঞ্জ। আজ তারা শিক্ষার্থী, ভবিষ্যতে তারাও বুদ্ধিজীবী হবে। তাই পাঠ্যবইয়ে ভুল সংশোধনে পদক্ষেপ নিন।
রিদয় কুমার মিত্র
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়