করোনার উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ১২ জেলা, মধ্যম ঝুঁকিতে ৩১

আগের সংবাদ

স্পেনে বৃদ্ধাশ্রমে আগুনে পুড়ে নিহত ৫

পরের সংবাদ

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জের

চবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১৩

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২২ , ১০:১২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২২ , ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে ক্যাম্পাস গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত। এর জের ধরে কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে আটকানোর পর সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২ টায় সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিজয় ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৩ কর্মী আহত হয়েছেন।

বিজয়ের নেতা-কর্মীদের দাবি, রাত ১২ টার দিকে বিনা উসকানিতে সিএফসির নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এসে তাদের নেতা-কর্মীর ওপর হামলা করেন। পরে তারা প্রতিহত করেছেন। অন্যদিকে সিএফসির নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বিজয়ের নেতা-কর্মীরা উসকানি দিচ্ছেন। এ কারণে তারা জবাব দিয়েছেন।

গত ১৩ জানুয়ারি চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপসাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাজমুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে তাদের মূল ফটকে আটকে দেন বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীরা।

এরপর থেকে পরিস্থিতি থমথমে হতে থাকে। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিজয়ের এক নেতার জন্মদিনে অনুষ্ঠানে ঢিল ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে সিএফসির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে এই জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিল। পরে মঙ্গলবার সারাদিন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা হলে ছিলেন।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বিজয়ের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে ছিলেন। আর সিএফসির নেতা-কর্মীরা ছিলেন শাহ আমানত হলে। দুই পক্ষের কাছেই রামদা ও লাঠিসোঁটা ছিল। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় ১ টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এতে সিএফসির অন্তত ৫ কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন। আর চারজন চিকিৎসা নেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। অন্যদিকে বিজয়ের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার সূত্র জানায়, পাথরের আঘাত ও দায়ের কোপ থাকায় তিন কর্মীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষ প্রসঙ্গে বিজয়ের নেতা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াছ বলেন, বিনা উসকানিতে তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ২৫ জানুয়ারির মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন দুই নেতা। কিন্তু কমিটির কার্যক্রম বানচাল করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুমন নাসির বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে তারা (বিজয় পক্ষ) অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। জন্মদিনের উছিলায় তারা সারা রাত উৎপাত করেছে। আজও তারা আমাদের নেতা-কর্মীদের গালাগাল করেছেন। এ কারণে আমাদের নেতা-কর্মীরা গিয়ে তাদের প্রতিহত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঝামেলা এড়াতে প্রক্টরিয়াল বডি সজাগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলছেন, ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিএফসির নেতা রেজাউল হককে সভাপতি ও সিক্সটি নাইনের নেতা ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু প্রায় আড়াই বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এ নিয়ে পদপ্রত্যাশীরা ক্ষুব্ধ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি দুই পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষ সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং আরেকটি পক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। এই দুই পক্ষ আবার ১১টি উপপক্ষে বিভক্ত। বিজয় ও সিএফসি এ দুটোই উপপক্ষ হিসেবে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করছে।

 

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়