ভেরিফিকেশন শেষ না করেই ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

আগের সংবাদ

ই-সিকিউরিটির গুরুত্ব ও করণীয়

পরের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান সহজ হোক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২২ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সরকার শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানে নানা উদ্যোগ নিলেও বিড়ম্বনা কমছে না। টিকাপ্রাপ্তি সহজ করে সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীর প্রমাণ হিসেবে স্কুলের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) থাকলেই চলবে। জন্ম সনদ দিয়েও টিকা নিতে পারবে তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এমন নির্দেশনাই দেয়া হয়েছে। কিন্তু টিকা কেন্দ্রে তার উল্টো চিত্র। এসএমএস ছাড়া টিকা প্রদান সম্ভব নয় বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ওমিক্রনের বিস্তারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও জোর দিচ্ছে টিকায়। শিক্ষার্থীরা এভাবে বিড়ম্বনার শিকার হলে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৪৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করেছে। ২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ এবং ১৭ লাখের বেশি দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন। আমরা জানি, সরকার এখন টিকাদান কর্মসূচি চালাচ্ছে, এর উদ্দেশ্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি সব শিক্ষার্থীকে অন্তত এক ডোজ টিকা দেয়া। এর আগে অবশ্য এই লক্ষ্যমাত্রার সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল। কিন্তু কার্যত শেষ পর্যন্ত এই সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানো হলো। এ সময়ে টিকা প্রদান কার্যক্রমে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি টিকা প্রদানে গতি বাড়ানো ও শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি। দেশে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের ২৩ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ পূর্ণ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন। টিকাদানে গতি না বাড়ালে ৮০ শতাংশ মানুষকে পূর্ণ দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে আরো ২৪ মাস সময় লেগে যেতে পারে। বর্তমানে যেভাবে মানুষ নতুন করে ওমিক্রন আক্রান্ত হচ্ছে তাতে দ্রুততম সময়ে সাধারণ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে সঠিক পদক্ষেপ। টিকা প্রদানে নানা ধরনের অভিযোগ গণমাধ্যমে আসছে। কেন্দ্রে সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই উপেক্ষিত হচ্ছে। টিকা দেয়ার সময় স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় করোনার উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, এ ধরনের কার্যক্রম শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ তা করেনি। এই ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দেশে চলমান করোনার টিকা কার্যক্রমে বিশেষ গতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি টিকা প্রদান করতে গিয়ে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি। সরকার যেভাবে দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছে তা প্রদানের বিষয়টিও সেভাবে দ্রুতায়িত করতে হবে। সব মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে টিকা পায় এবং গ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। টিকার আওতায় সবাইকে না আনতে পারলে সংক্রমণ কমিয়ে আনা অনেক কঠিন ব্যাপার। পাশাপাশি টিকা প্রদানে শৃঙ্খলার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সর্বোপরি দেশে টিকা প্রদানযোগ্য মানুষের সংখ্যা ১৩-১৪ কোটি হওয়ায় টিকাপ্রাপ্তির বিষয়টিকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়