ই-সিকিউরিটির গুরুত্ব ও করণীয়

আগের সংবাদ

নাসিক নির্বাচনের বহুমাত্রিক মূল্যায়ন ও করণীয়

পরের সংবাদ

মুরাদ এবং মুরোদ

হিলাল ফয়েজী

মুক্তিযোদ্ধা ও রম্যলেখক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২২ , ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

চলুন প্রথমে একটু আফগানিস্তান যাই। সেখানে অনেক দিনের দখলদার মার্কিনি শাসকরা হিসাব করে দেখল বিনিয়োগে কাজ হচ্ছে না। অতএব বিশ্বগোঁয়ার ট্রাম্প একদিন ঘোষণা করলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে ‘যাবোই আমি যাবোই’। অর্থাৎ আফগানিস্তান ত্যাগ করে চলে যাবে সব মার্কিন সেনাবাহিনী। পোষায় না, দিন তারিখও ঠিক করে দিলেন। সই সাবুদ চুক্তি হলো তালেবানদের সঙ্গে। কেননা আফগান মাটির বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে তালেবানরাই সবচেয়ে পোক্ত। সংহত। শক্তিধর। বেচারা বাইডেন। ক্ষমতায় এসে চুক্তি বজায় রাখতে গিয়ে খেলেন কিছু অভাবনীয় ধাক্কা। দিন তারিখ ঠিক। অতএব সুযোগ পাট্টি জেগে উঠল চারিধারে। মুসলমান উইঘুরদের বিদ্রোহ দমাতে চীনের শাসকরা নির্মমতা শব্দটি সার্থক করে তুলল। এককালে আফগানিস্তান থেকে লেজ গুটিয়ে পালানো রাশিয়ানরা এবার নতুন করে জেগে উঠল। চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান এক রশিতে বাগ বাগ। সবাই দাঁড়াল তালেবানদের পাশে। তখন আর তালেবানদের কে পায়! ওরা যুদ্ধের চেয়ে মালপানিকে উত্তম অস্ত্র বানিয়ে ফেলল। আফগান সরকারি বাহিনীর কমান্ডারদের কিনে ফেলল। তারপর অবিশ্বাস্য গতিতে কাবুল পানে ছুটল বাইডেনীয় সব হিসাব-নিকাশ-তারিখ ইত্যাদি চুরমার করে।
পরিস্থিতির আকস্মিক বাঁকে কাবুলের প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার তালেবান দেখে ঘাবড়ে গেল মার্কিনি পুতলা রাজা আশরাফ ঘানি। সর্বশেষ সুযোগে জুতোর পাটি ফেলে বিমানযোগে আফগানিস্তান থেকে পালাল ঘানি। না উজবেক-তাজিক-কাজাখ কেউ তাকে ঠাঁই দিল না। ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে ঠাঁই পেল সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অজস্র মানি। তবুও শুকিয়ে যাওয়া বুকের ভেতর অনেক পানি ঢেলেও পার পেল না ঘানি। বিশ্বব্যাংকের এককালীন কর্তাও ভর্তা হয়ে গেল নিমেষে। আমাদের ডাক্তার মুরাদ মিয়ার সঙ্গে ডক্টরেট ঘানির ভাগ্যের কিছু মিল দেখেই আজকের লেখা।
ঘানি ভেবেছিল, মহাশক্তি মার্কিনি প্রভুরা অনন্তকাল আছে, অতএব তার আর ভয় কী! তা মুরাদের কেইসটা একটু ভিন্ন। সে ডাক্তারি পাস করেছে ময়মনসিংহ থেকে। বাবা আওয়ামী কর্তা। পোলা বিএনপি। একবার দলের পক্ষে মারামারি করতে গিয়ে তার আঙুল কেটে গিয়েছিল। সেই থেকে তার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘আঙুলকাটা’। তার বাবার উত্তরাধিকারে সে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে গেল ভোল ও বোল পাল্টে বাবার দলের হয়েই। পরের বারতো পোল ভল্টে একেবারে প্রতিমন্ত্রী। প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। ক্ষমতার মুরোদে বুঝি তালগোল পাকিয়ে ফেলল। দলীয় স্বাস্থ্য সমাজ তাকে প্রত্যাখ্যান করল বেসামাল বকাবকির জন্য। তারে বদলি করে দেয়া হলো তথ্য বিভাগে। তা সেখানেও বেসামালপনা চললই। একথা সে কথা, আওয়াজ-হুংকারে বারবার সরকারকে বিব্রত করে যাওয়ার কারবার চালিয়ে যেতে লাগলই। মুরাদ মিয়ার ‘মুরোদ’ দেখে তো পাবলিকের চক্ষু ‘চড়কগাছ’ কিংবা ‘ছানাবড়া’।
বেলেল্লা সাহস তার বাড়তেই থাকল। অবশেষে তিনি পড়লেন এক মহাবেকায়দায়। হঠাৎ একদিন তার ডিজিটাল টালমাটাল বেসামাল কারবার ফুড়–ৎ করে বেরিয়ে পড়ল। এই অ্যাম্বুশটি কে বা কারা ঘটাল জানা যায়নি। বেচারা বেকুব বনে গেল। ক্ষমতায় যারা এসেছিল, তারা তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল। এরপর? দে ছুট কানাডা। সেখানে অপেক্ষা করছিল ওই আফগানিস্তানের ঘানি-ভাগ্য। তাকে কানাডা থেকে বিমানযোগে ঘাড় মটকে পাঠিয়ে দেয়া হলো ঘানির আশ্রয়স্থল দুবাইয়ে। ঘানির পশ্চাতে ছিল মার্কিন মুল্লুক। মুরাদের ‘মুরোদ’ জানা গেল, দুবাই তাকে ‘বাই বাই’ করে দিল। অতঃপর মুরাদ মিয়া ফিরে এলো দেশে। বিশেষ ধরনের হিজাব পরে বিমানবন্দর থেকে পালাতে হলো তাকে।
তারপর আর খোঁজ নেই। খোঁজ নেই। খোঁজ নেই। কোথায় সদ্য পদত্যাগী তথ্য প্রতিমন্ত্রীর তথ্যপাতি! ক’দিন পর এই ২০২২ সালের শুরুতে ৯৯৯। পুলিশ জানল মিসেস মুরাদের কাছ থেকে বিশেষ তথ্য। মুরাদ মিয়া দুনিয়া হারিয়ে ‘মুরোদ’ ফলাচ্ছেন ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের ওপর। ৯৯৯-এ এহেন ফাইন খবরের ফলাফল কী জানতে পারিনি।
এদিকে বাংলাদেশের অনেকে টগবগে বিপ্লবী হিসেবে ঠাঁই নিয়েছেন কানাডাতে। তারা বেগমপল্লী আর মুরাদ মিঞা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। বেগমপল্লী কেমন করে গড়ে উঠে, পোলা ট্রুডো তার কোনো জবাবদিহিতায় পড়েন না। তবে মুরাদ মিয়ার বিরুদ্ধে টগবগে বাহিনীর ই-মেইলে নাকি তিনি কুপোকাত চিৎপাত হয়ে মুরাদ মিয়াকে কানাডায় ঢুকতে দেয়ার ‘মুরোদ’ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রবাসী বিপ্লবী টগবগে বাহিনীর অমর সাফল্যগাথার বিজয়কীর্তনে বিশ্ব বিমুগ্ধ।
তবে এসব প্রশংসায় ঈর্ষা আর হিংসা সর্বত্রই উৎপাদিত হয়। কেউ কেউ বললেন এতকাল ধরে বঙ্গবন্ধু-হত্যাকারীদের কেউ কেউ কানাডা-আমেরিকায় ফ্রি স্টাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রবাসী বিপ্লবী টগবগে বাহিনীর ‘মুরোদ’ কুলাল না ওদের কেশাগ্রটুকু এতটুকু স্পর্শ করতে! রহস্যটা তাহলে কী!

হিলাল ফয়েজী : মুক্তিযোদ্ধা ও রম্যলেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়