বিশ্বকাপে হারে শুরু যুবা টাইগারদের

আগের সংবাদ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং দেশের চ্যালেঞ্জ

পরের সংবাদ

বোয়ালখালীতে প্রতিমা ভাঙচুর : প্রতিটি অপরাধের কঠোর বিচার হোক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১:০৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

গতকাল ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আসন্ন সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তৈরি করা ৩৫টি সরস্বতী প্রতিমা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার পূর্ব শাকপুরার ঐতিহ্যবাহী লালার হাটে এ ঘটনা ঘটেছে। মৃৎশিল্পী বাসু দেব পাল এসব প্রতিমা বিক্রির জন্য গড়েছিলেন। এর বেশিরভাগেরই অগ্রিম বায়না নেয়া। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রতিমাগুলো বানানো হচ্ছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আসছে। দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রায়ই হচ্ছে। প্রতি বছর শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের সংবাদ পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে কি আমরা একটি বছরও এই কলঙ্ক থেকে কখনো রেহাই পেয়েছি? ইদানীং ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্রে করে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধদের বাড়িঘর ও বৌদ্ধবিহারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। গত বছর মার্চ মাসে সুনামগঞ্জে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ধর্মীয় অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়। ঘটনাগুলো দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা বলি আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু ইদানীংকালে অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের যে প্রকাশ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিকির তুলে স্বার্থান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, মন্দিরের ওপর এ রকম আক্রমণ জাতীয় সংহতির ওপর বিরাট আঘাত। এই হামলার ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আরো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। আমরা মনে করি, দেশের বিভিন্ন স্থানে হওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনার বিচার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঘটা প্রতিটি সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার হোক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়