আতশবাজি-ফানুস ওড়ানো বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আগের সংবাদ

পার্বতীপুরে বাস ইজিবাইক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬

পরের সংবাদ

নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন: নিরুত্তাপ ভোটগ্রহণ শেষ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ৪:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে নিরুত্তাপ ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। পৌরসভার প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটারের ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি কমে যায়। নির্বাচনের আগে ভোটারদের মাঝে উৎকণ্ঠা দেখা গেলেও ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ভোটগ্রহণ।

পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ চলে। প্রতিকূল আবহাওয়া মাড়িয়ে সাত সকালে কেন্দ্রে হাজির হয় ভোটাররা। তবে ভোট কেন্দ্রে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

সকালের দিকে কেন্দ্রে ভোটারদের চাপ থাকায় দুপুরের দিকে পৌরসভার গোপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ১১০ বছর বয়সী আফিয়া খাতুন। তিনি বলেন, জীবনে হতো (হয়তো) এঠাই শেষ ভোট। তাই কষ্ট করে অ্যাইছি ভোট দিতে। ভোট দিয়ে মেলা শান্তি পাইছি।

আল ফারুক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট হচ্ছে । জীবনে প্রথম ইভিএমে ভোট দিব। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে আসছি। তাড়াতাড়ি ভোট দিলে তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে পারব।

কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দেন রুনু হাসান। তিনি বলেন, এবার ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ অনেক সুন্দর ছিল। কেউ কোনো প্রভাব খাঁটাতে পারেনি। তাই শান্তিতে ভোট দিতে পেরেছি। সুশৃঙ্খল ভোট উপহার দেয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

গোপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন বলেন, সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখানে ৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার মোট ভোটার ৭৫ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৭ হাজার ৪০১ ও নারী ভোটার ৩৮ হাজার ৩২৫ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, ৯টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল।

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলাকালে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলেননি মেয়র পদের প্রার্থীরা।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, নোয়াখালী পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে এবারই প্রথম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালীন কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেছি। সেই মোতাবেক ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ৭৫০ জন পুলিশ, ৪৫০ জন আনসার, ৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩ প্লাটুন র‍্যাব, পুলিশের চারটি মোবাইল টিম, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে কোনো প্রকার অনিয়মের ঘটনা নজরে আসেনি। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল।

পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বর্তমান মেয়র সহিদ উল্যাহ্ খান সোহেল। এছাড়া বিএনপি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কিরন কম্পিউটার (স্বতন্ত্র), শহর বিএনপির সভাপতি আবু নাছের নারিকেল গাছসহ ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়