সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে: তৈমূর

আগের সংবাদ

লাখ লাখ আফগান মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে

পরের সংবাদ

সরকারি বিধি-নিষেধে দলীয় কর্মসূচি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত বিএনপির

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২ , ১২:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২ , ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে যে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে তাতে নিজেদের দলীয় কর্মসূচি পুনঃবিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নামে সরকার যে বিধি-নিষেধ জারি করেছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। করোনা প্রতিরোধে সরকার যতটা না আগ্রহী তার চাইতে বিরোধী দল দমনে তাদের আগ্রহ বেশি।

নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা বিস্তারের প্রথম দিকে সরকারের অবহেলা এবং মন্ত্রীদের দায়িত্বহীন আস্ফালন জনগণকে বিপদাপন্ন ও করোনার অসহায় শিকারে পরিণত করেছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত না করার আত্মঘাতী প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞমহল যখন বলছেন উন্মুক্ত স্থানের চেয়ে বদ্ধ স্থানে করোনা বেশি ছড়ায়-তখন বাংলাদেশ সরকার ১১ দফা নির্দেশনায় উন্মুক্ত স্থানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বদ্ধ স্থানে তা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এই অযৌক্তিক সরকারি সিদ্ধান্ত অবশ্যই করোনা সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে নেয়া হয়নি। বিরোধী দলসমূহের চলমান প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত দমন করার জন্য এ বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে।

বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে, হাট-বাজার, যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে, সারাদেশে মেলার আয়োজন করা যাবে এবং মুজিব বর্ষ পালনের কর্মসূচি দীর্ঘায়িত করা যাবে সেখানে উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে না। কাজেই এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অগণতান্ত্রিক এবং দমনমূলক বলেই আমরা মনে করি।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, এসব দমন-পীড়নে চলমান আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যায়নি বরং তা আরও বেগবান হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অন্যায় ভাবে কারারুদ্ধ ও অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসাসহ অনির্বাচিত, দুর্নীতিবাজ, বিশ্বদরবারে মাতৃভূমির মর্যাদা বিনষ্ট করা সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য যথাযথভাবে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে এবং চলবে।

ইতোমধ্যে জনস্বার্থ এবং প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের চলমান সভা সমাবেশের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা বিএনপি ও অঙ্গদলসমূহের সকল কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলার নেতৃবৃন্দকে পুনঃ নির্ধারিত তারিখে সভা সমাবেশ সফল করার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার আহবান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়