মাতারবাড়িতে প্রেমিকের বাবাকে খুন করল প্রেমিকার ভাই

আগের সংবাদ

ভারতে ২ দিনে করোনা শনাক্ত ৫ লাখ ছাড়াল

পরের সংবাদ

রঙিন ঘুড়ির ডানায় শুরু হয়েছে সাকরাইন উৎসব

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২২ , ২:২১ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২২ , ২:২১ অপরাহ্ণ

পৌষ সংক্রান্তি আজ। বারো মাসে তেরো পার্বনের দেশে আজ ভোরের কুয়াশা ভেদ করে রাঙা সূর্য উঠার আগেই পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আকাশ ছেয়ে গেছে বাহারী রং বে রংয়ের ঘুড়িতে। একজন আরেকজনের ঘুড়ি কাটায় ব্যস্ত। পিঠাপুলিতে আনন্দে মাতামাতি।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ, মুরগিটোলা, কাগজিটোলা, গেন্ডারিয়া, বাংলাবাজার, ধূপখোলা মাঠ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাখারিবাজার, সদরঘাট, কোটকাচারী, তাঁতীবাজার, শিংটোলাসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জাঁকালো ভাবে সাকরাইন উৎসব পালন হতে দেখা যাচ্ছে। ঘুড়ি উড়ানোসহ ছাদে লাগানো হয়েছে ডিজে সাউণ্ড বক্স ও লাইটিং। রাতে হবে অনুষ্ঠান।

এর আগে সাকরাইন উৎসবকে ঘিরে বেশ কদিন আগে থেকেই পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে চলছিল ঘুড়ি, নাটাই ও সুতা বেচাকেনার ধুম। ছাদ ভর্তি ছিল পুরোদমে রোদে সুতা শুকানোর কাজ।

জানা যায়, পৌষ মাসের শেষ দিন সাকরাইনে নতুন ধানের চালের পিঠাপুলি খেয়ে ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ উৎসব করার রেওয়াজ। পুরান ঢাকার মানুষ এই উৎসব পালন করে আসছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে। তবে এখন আর আগের মতো সবার ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি হয় না। ডিজে গান আর আতোসবাজি ফুটানোর মতো আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে এখনকার সাকরাইনে। তবে এখনো কিছু কিছু ঘরে সে সময়ের রেওয়াজ ধরে পিঠা তৈরি করে। পিঠার সংস্কৃতিটা কমে গেলেও অন্যান্য সংস্কৃতির মতো ঘুড়ি উড়ানোর মতো উৎসবে পিছিয়ে নেই এ প্রজন্মের তরুণরা।

গাজীপুর থেকে পুরান ঢাকায় গত কয়েক বছরের ন্যায় সাকরাইন দেখতে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিহাল আহমেদ। তিনি বলেন, উৎসবের নগরী পুরান ঢাকা। এখানে সাকরাইন উৎসবে ঘুড়ি উড়ানো দেখতে আসলেই ভালো লাগে। পুরো আকাশ ছেয়ে যায় রঙিন ঘুড়িতে। তাই এবারও বন্ধুদের সঙ্গে সাকরাইন উৎসব দেখতে আসলাম। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানো দেখে রাতে ডিজে গানের সঙ্গে অনেক মজা করব।

এদিকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল যতো হচ্ছে পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গার আকাশে বাড়ছে রঙিন ঘুড়ির রাজত্ব। বিকেলে বিগত বছরের ন্যায় আকাশে হাজারো ঘুড়ি কাটাকাটির মেলা বসবে বলে মনে করছেন উৎসব প্রিয় মানুষরা।

এদিকে পুরান ঢাকার বাংলা বাজার এলাকাসহ আশপাশের বাসার অনেক ছাদে এখনই শুরু হয়েছে গান বাজনা। তবে বিগত বছরের ন্যায় রাতের আকাশে ফানুস ও আতোসবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা কতটা মানবেন উৎসব নগরীর মানুষরা তা দেখার বিষয়।

রি-আরএ/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়