সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা : ভাড়া নিয়ে ভোগান্তি আর নয়

আগের সংবাদ

গ্রামীণ প্রবীণ জীবন

পরের সংবাদ

যানজট অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?

আর কে চৌধুরী

মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২২ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২২ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা, বছরে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। তাই নিরাপত্তার কারণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত নয়। ম্যারাথনের মতো ক্রীড়ার আয়োজন রাজধানীর বাইরে করার বিষয়েই আগামীতে ভাবতে হবে। কারণ একেকটা অগ্রাধিকার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময় অচল করে দেয়। যানজট যে রাজধানীবাসী বা মোটা দাগে দেশবাসীর জন্য কতটা অভিশাপ হয়ে উঠেছে প্রতিদিন অন্তত ৫০ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার বিষয়টিতে তা স্পষ্ট হয়। যানজট নিরসনে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণের চেয়েও ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় বেশি নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে রাজধানীজুড়ে ফ্লাইওভারের জাল বুনলেও কোনো কাজ হবে না। আমরা বারবার এ কলামে বলেছি যানবাহন চালকদের যাচ্ছেতাই আচরণ রাজধানীর যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং যানজটে মদদ জোগাচ্ছে। রাজনৈতিক টাউটরাও যানজটের জন্য অনেকাংশে দায়ী। ফুটপাত দখল করে যেসব দোকানপাট বসে তার প্রতিটি থেকে রাজনৈতিক টাউটরা ভাড়া আদায় করে। উল্টো পথে গাড়ি চালানোও কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। যানজট নিরসনে প্রাইভেট গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও জরুরি। কোচিং সেন্টারের অপচর্চা যানজটের অন্যতম কারণ। তবে সবকিছুর আগে চাই সদিচ্ছা। বাস-ট্রাক মালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের গোপন সমঝোতা বন্ধও যানজট নিরসনের জন্য জরুরি। দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট জাতির অগ্রগতির জন্য বিরাট বাধা। দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করতে হবে। দিন যতই যাচ্ছে জটিলতাও প্রকট হচ্ছে। এই যানজটে একদিকে যেমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থারও। দেখা যায়, ছোট ছোট সড়কে রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল চালকদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার কারণে ছোটখাটো যানজট এটা নিত্যদিনের। সঙ্গে প্রধান প্রধান সড়কে অতিমাত্রায় স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানোয় রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এর প্রভাব ছোট ছোট সড়কে পড়ায় রাজধানীতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। যানজটের আরো কয়েকটি বড় কারণ আছে। প্রথমত, প্রায় দুই কোটি মানুষের এই মহানগরে সড়কের তুলনায় যানবাহনের যে প্রাচুর্য সৃষ্টি হয়েছে, তা একেবারেই অস্বাভাবিক। বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ কতসংখ্যক যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারে, তা বিবেচনায় না নিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তীব্র যানবাহন নিবন্ধন করা হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। ঢাকার রাজধানীতে তীব্র যানজট এটা নিত্যদিনের সঙ্গী। তারপর বিভিন্ন সড়কে রোড ডিভাইডেশনের কাজগুলো এক সঙ্গে সচল রাখায় অস্বস্তি সৃষ্টি হয়ে গেছে। প্রতিদিন অফিসের বেঁধে দেয়া সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এভাবে চলতে থাকলে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে দীর্ঘ যানজটে বসে থাকায় মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, উন্নতমানের ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক বাসসেবা চালু করাই আমাদের সর্বোত্তম বিকল্প। এছাড়া যা করা দরকার, তা হলো ফুটপাতগুলোকে হাঁটাচলার উপযোগী করা এবং সড়কের দুপাশে যানবাহন পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ করা।

আর কে চৌধুরী : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়