তিন জট থেকে মুক্তির প্রত্যাশা

আগের সংবাদ

সাড়ে তিন মাস আগে লন্ডনে মারা গেছেন হারিছ চৌধুরী

পরের সংবাদ

ঘরের শত্রু বিভীষণ

যে কারণে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে দোষারোপ। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, সদ্য সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ঠরা সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠদের ঘরের শত্রু বিভীষণ মনে করছেন। এ নিয়ে চলছে বাহাস। এর মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি শনিবার মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নাসিকে ভোটের মাঠ জমে উঠলেও মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিলেন নীরব। তাদের অনেকের গোপন তৎপরতায় বিএনপি নেতা হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার উজ্জীবিত হয়েছেন। আবার অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আইভীর বিপক্ষে সরব ছিলেন। তাদের তৎপরতা নিয়ে ভাবনায় পড়ে আওয়ামী লীগ। এরপরই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের অনেক জেলা-মহানগর-উপজেলা-পৌর ও কলেজ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এক বছর মেয়াদের কমিটির বয়স একযুগ পেরিয়ে গেছে এমন ইউনিটও রয়েছে। ২০১৮ সালের ১০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষিত হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হাসনাত রহমান বিন্দুকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

আইভীপন্থিদের অভিযোগ, ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় ছাত্রলীগের মহানগরের নেতারা তেমন সরব নন। মাঝে একদিন প্রচারণা করলেও তাদের আর দেখা যায়নি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতারা তাদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর

নেন। এতে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি অবহিত করলে মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। পরদিন গত রবিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালান ও দলীয় কার্যালয়ে সভা করেন। এদিকে কমিটি বিলুপ্ত করার পর গত শনিবার রাতে হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও হাসনাত রহমান বিন্দুর বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের বাসায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের অনেককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, নাসিক নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ পেয়ে তাদের বাসায় পুলিশ গিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১০ মে একই দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হলেও গত শনিবার ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ উল্লেখ করে শুধু মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি এখনো বহাল আছে।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত শহীদ বাদল, জেলা কৃষকলীগ সভাপতি চন্দন শীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আসাদুর জামান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল, সাবেক পিপি ওয়াজি উদ্দিন খোকন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ অনেকে। গত সোমবার শামীম ওসমান তাদের নৌকার প্রচারণায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়