নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন পরী মনি

আগের সংবাদ

নিরব-তমাকে নিয়ে এস আই টুটুলের ‘এমনই এক ধাঁধা’

পরের সংবাদ

ভ্রমণ ভিসায় এসে প্রতারণাই তাদের কাজ, ৭ বিদেশি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ২:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ৩:১৭ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের বিদেশি এ নাগরিকরা ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে রাজধানীর পল্লবী, রুপনগর ও দক্ষিণখান এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে। এ ব্যবসার আড়ালে তারা দেশীয় সহযোগীদের নিয়ে এ অভিনব প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের নামে মামলাও রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সোনিয়া আক্তার ও নাহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক চক্রের এ দেশীয় সহযোগী। মূলত তাদের মাধ্যমেই এই প্রতারক চক্রের বিদেশি নাগরিকরা ভিকটিম সংগ্রহ, বন্ধুত্ব স্থাপন, কাষ্টম অফিসার পরিচয় দিয়ে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব করে মূল্যবান উপহার পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎকারী ৭ বিদেশি নাগরিকসহ সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর পল্লবী, রুপনগর ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দামী পার্সেল পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দেশীয় মো. নাহিদুল ইসলাম (৩০) ও সোনিয়া আক্তার (৩৩) ছাড়াও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৭জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

তারা হলো- নাইজেরিয়ার নাগরিক উদেজে ওবিন্না রুবেন (৪২), ইফুন্যা ভিভিয়ান নাউইকে (৩১), সানডে সেডেরাক এজিম (৩২), চিনেদু মোসেস নাজি (৩৬), কলিন্স ইফেসিনাছি তালিকে (৩০), চিদিম্মা এবেলে আইলোফোর (২৬) ও দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক এনটোম্বিখোনা গেবুজা (৩৬)। এসময় তাদের কাছ থেকে ৮টি পাসেপোর্ট, ৩১ টি মোবাইল, ৩টি ল্যাপটপ, ১টি চেক বই, ৩টি পেনড্রাইভ ও নগদ ৯৫ হাজার ৮১৫ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত উদেজে ওবিন্না রুবেন এ আন্তর্জাতিক চক্রের হোতা। গ্রেপ্তারকৃতরা দু’বছর থেকে ৩ বছর আগে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসে। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কাজের কথা বললেও প্রতারণা তাদের পেশা। তাদেরকে এ কাজে সহায়তা করে নাহিদুল ও তার স্ত্রী সোনিয়া।

গত ২০১৮ সালের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাইজেরিয়ান নাগরিক উদেজে ওবিন্না রুবেন এর সঙ্গে পরিচয় হয় সোনিয়ার। পরিচয়ের মাধ্যমেই সে এ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পরে। প্রতারণার কাজে সহযোগিতার জন্য উদেজে ওবিন্না রুবেন ভিকটিম প্রতি প্রতারণার ২৫% অর্থ সোনিয়া আক্তারকে দিয়ে দিত। সোনিয়া আক্তারের নিজের নামে দক্ষিণখানে একটি চারতলা বাড়ি ও একটি প্রাইভেট কার রয়েছে। প্রতি মাসে সোনিয়া ও নাহিদুল নাইজেরিয়ান নাগরিক উদেজে ওবিন্না রুবেন এর সঙ্গে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় মাসে/সপ্তাহে ২-৩ বার দেখা করত। সোনিয়া এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মত ব্যক্তির সংগে প্রতারণা করেছে বলে স্বীকার করেছে। এখন পর্যন্ত এ চক্রটি ২ কোটি টাকার বেশী হাতিয়ে নিয়েছে।

রি-এআরজে/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়