রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারো আগুন : সংকট সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে

আগের সংবাদ

ইসি গঠন : সংলাপ শেষ হচ্ছে ১৭ জানুয়ারি

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। চোখ রাঙাচ্ছে নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে সবাইকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জারি করেছে নানা বিধিনিষেধ। মাস্ক না পরলে শাস্তি; উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলেও বাসসহ যানবাহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে গতকাল সোমবার জারি করা হয়েছে প্রজ্ঞাপন। দেশে চলছে নির্বাচন, বাণিজ্যমেলা, পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজন। চলছে অমর একুশে বই মেলার প্রস্তুতির কাজও। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানা বা মানানো কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তারা আছেন সরকারের দিক নির্দেশনার অপেক্ষায়।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের হাতে এখনো প্রজ্ঞাপন এসে পৌঁছায়নি, শুনেছি মাত্র। এটি আমরা আগে পর্যালোচনা করে দেখি। তবে যেহেতু নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন। তাই কমিশন এ বিষয়ে মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেবে আমরা সচিবালয় তা মেনে চলব। নির্বাচন বন্ধ হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সিইসিসহ কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আজ মঙ্গলবার কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, টাঙ্গাইল-৭ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনসহ বেশ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হওয়ার কথা। এ নিয়ে প্রার্থীরা তুমুল প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। তারপর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরো ৩ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। এসব নিয়ে এখন প্রার্থী, ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলেই সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেসের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী ভোরের কাগজকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে কোনো নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সেই বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত থাকা দরকার। এতে মানুষ বুঝতে পারে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত না হলে মানুষের মাঝে আস্থা কমে যায়। তবে আমার মনে হয়, এই বিষয়গুলো সুচিন্তিতভাবে দেখা বা ভাবা হয় না।

অন্যদিকে রাজধানীর পূর্বাচলে চলছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। মেলাটি এখনো জমে ওঠেনি। এ অবস্থায় বিধিনিষেধের কারণে মেলার ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে মেলা বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অন্যথায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মেলা চালিয়ে নেয়ার পক্ষে তারা।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, যে নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে- এটি আসলে একটি সাধারণ গাইড লাইন। মানুষের জীবন জীবিকা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, আতঙ্ক সৃষ্টি না করে, সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে সেই গাইডলাইন অনুযায়ী মাঠ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগ নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পক্ষে নই। তবে কিছু বিষয় আরো ভেবে দেখা দরকার। যেমন আগের বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। এদিকে বাসসহ যানবাহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যাতায়াতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। তবে এই নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত; এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আরো বিচার বিশ্লেষণ হবে। জনগণের ভোগান্তি হোক, আমরা তা চাই না।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়