সাউথইস্ট কম্পিউটার ক্লাবের সভাপতি শাহাদাৎ, সম্পাদক রাকিবুল

আগের সংবাদ
ফাইল ছবি

করোনার বিধিনিষেধেও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন হবে

পরের সংবাদ

রংপুরে ঠাণ্ডাজনিত রোগে ১১ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ২:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

উত্তরাঞ্চলের রংপুরে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। কুয়াশাচ্ছন্ন হিমেল হাওয়ার ফলে তীব্র শীতে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা কাবু হয়ে পড়ছেন। শীতের ফলে নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু।

গত পাঁচ দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১ মাস থেকে ১ বছর বয়সী ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে কমপক্ষে ৫ শতাধিক শিশু।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালে আসছেন। তবে হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসক মাত্র দুজন। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দুই চিকিৎসক। দুই মেডিকেল কর্মকর্তা ছাড়া রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক পদের কোনো চিকিৎসককে সেখানে ছিলেন না।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা স্বজনরা অভিযোগ করেন, এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নেই। রোগী দেখার নামে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থেকে সাত মাসের সন্তানকে নিয়ে এসেছেন মা আফরোজা বেগম। তিনি জানান, এক সপ্তাহ ধরে তার মেয়ের জ্বর কমছে না। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ সেবন করিয়েও কাজ হয়নি। তারা বলছেন, নিউমোনিয়া হয়েছে। সকাল ৭টায় হাসপাতালে এসেছেন। বহির্বিভাগে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু তার সামনে অন্তত ১০০ জনের সিরিয়াল রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখানে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন চিকিৎসক থাকলে ভালো হতো। কিন্তু মাত্র দুজন চিকিৎসকের একজন রোগী দেখছেন, অন্যজন ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন।

একই কথা বললেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মমতাজ বেগম। তিনি জানান, তার পাঁচ মাস বয়সী ছেলের কাশি কমছে না। কাশতে কাশতে বমি করছে। তার ওপর প্রচণ্ড জ্বর। প্রথমে জরুরি বিভাগে নিলেও তারা বহির্বিভাগে দেখাতে বললেন। বহির্বিভাগ থেকে লিখে দিলে ভর্তি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এক বছরের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন রংপুরের তারাগঞ্জের আখতার হোসেন ও তার স্ত্রী। ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানালেন। তাদের দাবি, যারা রোগী দেখছেন, তারা কেউই শিশু বিশেষজ্ঞ নন। মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে রোগী দেখালে ভালো কিছু হবে না। সন্তানকে তারা বড় ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে দেখাবেন বলে জানান। তবে প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকরা অনেক বেশি ফি নেন বলেও অভিযোগ করেন এ দম্পতি।

এভাবেই অন্তত ৫০ জন রোগীর স্বজনরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরিচালকের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে জানান। তবে তারা শীতের সময় বাচ্চাদের পর্যাপ্ত গরম পোশাক পরানোর বিষয়ে জোর দেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রেজাউল করিম জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের মধ্যে যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হচ্ছে, তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে শিশু ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে এমনিতেই প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন মারা যায়। এ ক্ষেত্রে শিশুরাও মারা যেতে পারে। তবে রোগীর স্বজনরা যথাসময়ে হাসপাতালে নিয়ে এলে অনেককে সুস্থ করা সম্ভব হতো।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়