পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে বড় কোম্পানিগুলো

আগের সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি, দেউলিয়া হওয়ার পথে

পরের সংবাদ

১৮ বিশিষ্ট নাগরিকের ক্ষোভ

প্রথম অংকন শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলার দরপত্র

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ

খুলনার মহেশ্বরপাশায় স্থাপিত পূর্ব বাংলা’র শিল্প সংগ্রামের স্মারক দেশের প্রথম অংকন শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট ভেঙে ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করার ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিশিষ্টজনেরা। ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, লায়লা হাসান, আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবির, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, সারা যাকের, শিমূল ইউসুফ ও গোলাম কুদ্দুছ।

বিবৃতিতে তারা বলেন, পূর্ব বাংলা তথা বর্তমান বাংলাদেশের শিল্পরুচি-বোধ, ইতিহাস, ঐতিহ্যের স্মারক ১৯০৪ সালে শিল্পী শশিভূষণ পাল খুলনার মহেশ্বরপাশায় স্থাপন করেন দেশের প্রথম অংকন শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশ্বরপাশা স্কুল অব আর্ট। নিজ বাড়িতে এই শিল্প-বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন শশিভূষণ পাল। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯২৯ সালে নিজ বাড়িতে চিত্রশিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুরম্য ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনটিতে দীর্ঘ সময় আর্ট স্কুলটির কার্যক্রম চলে। বর্তমানে ঐতিহ্যের স্মারক এ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আমরা ফেসিলিটিজ অধিদপ্তরের এহেন দায়িত্ব জ্ঞানহীন ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধ্বংসের কর্মকাণ্ডে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভবনটি ঘিরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। ১৯৭৪ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও কবি জসিমউদদীন এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের প্রথম অঙ্কন শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিয়েছিলেন। শিল্পী সুলতান নানা সময়ে এ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। ১৯৮৩ সালে আর্ট স্কুলটি খুলনা শহরে স্থানান্তরিত হয়ে খুলনা আর্ট কলেজ ও বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা আর্ট ইনস্টিটিউট হিসাবে পরিচালিত হচ্ছে। গত শতকে শশিভূষণ পাল নামে একজন শিল্পপ্রেমী মানুষ তার নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের প্রথম চিত্রশিল্প বিদ্যালয় স্থাপন করে যে নজির স্থাপন করেছিলেন তা আমাদের ইতিহাসের গৌরবের অধ্যায়! নিজ বাড়িতে নিজস্ব চেষ্টায় যে সুরম্য ভবন তৈরি করেছেন তা আমাদের ঐতিহ্যের স্মারক! সেই স্মারক ভেঙ্গে ফেলার অর্থ হচ্ছে নিজ গৌরবের ইতিহাস থেকে বাংলাদেশকে এবং দেশের জনগণকে বিচ্ছিন্ন করা।

বিবৃতিদাতারা এই অপ-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এ ভবন রক্ষা করে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে ‘শশিভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘর’ এ রূপ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

রি-এসবি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়