পুলিশের ভুয়া অফিস আদেশ বানিয়ে প্রতারণা করতেন মাহবুবুর

আগের সংবাদ

লতা মঙ্গেশকর করোনায় আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি

পরের সংবাদ

পরকীয়ার জেরে স্ত্রী-সন্তানকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২২ , ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

পারিবারিকভাবে ২০১৩ সালে খাগড়াছড়ির খালেদা আক্তার পিংকির (২৫) সঙ্গে বিয়ে হয় মো. সোলেমান হোসেনের (৩৫)। তাদের সংসারে পাঁচ বছর ও চার মাস বয়সী দুটি শিশু সন্তান ছিল।

পিংকির পারিবারিক অবস্থা ভালো হওয়ায় সম্প্রতি যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে সোলেমান। এক পর্যায়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে সোলেমান পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও চার মাসের কন্যা সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে সোলেমান।

সোমবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে সোলেমান হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ (এসএসপি) সুপার মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সোলেমান গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে অপারেটর হিসেবে কাজ করত। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে তার সঙ্গে পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোলেমান গ্রামের বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। তাদের ১০ বছরের সংসারে ফারিয়া সুলতানা (৫) ও সালমা আক্তার জান্নাত (৪ মাস) নামে দুই কন্যা সন্তান ছিল।

পিংকিদের পারিবারিক অবস্থা ভালো হওয়ার কারণে সম্প্রতি সোলেমান হোসেন কাজ না করে মোটা অংকের যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে পিংকিকে। এক পর্যায়ে পিংকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোলেমান পার্শ্ববর্তী একজন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সোলেমানের স্ত্রী পরকীয়া থেকে সরে আসার জন্য সোলেমানকে চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত ধারালো দা দিয়ে প্রথমে পিংকিকে ও পরে চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে সোলেমান।

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর আরও বলেন, গলা কেটে হত্যার পর কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে ঘরের মেঝেতে রেখে তালা দিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যায় সোলেমান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পিংকির বাবা আব্দুল খালেক দুলাল বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার হয়।

ঘটনার পর পর সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে সোলেমান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডাবল মার্ডারে সোলেমানের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না জানতে চাইলে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে সোলেমান হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলেও জানান।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়