বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করুক

আগের সংবাদ

রাজাকার তালিকাবহির্ভূত বাকি দেশবাসী মুক্তিযোদ্ধা

পরের সংবাদ

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা

সঞ্জয় চৌধুরী

শিক্ষক ও লেখক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষা, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে অগ্রগতির লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার প্রশ্নে বাঙালি জাতি যখন গভীর সংকটের সম্মুখীন ঠিক সেই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন ওই গভীর সংকট থেকে কাটিয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে বাঙালি জাতিকে আবারো প্রেরণা জুগিয়েছে বলে আমি মনে করি। এই দিন স্বাধীন বাংলার আকাশে সূর্যোদয়ের মতো চিরভাস্বর-উজ্জ্বল ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। সেদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ধ্রæপদী বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালোবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালোবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালোবাসি, সে বাংলায় ফিরে আসতে পারব কিনা তা পাকিস্তানের কারাগারে বসে সবসময় চিন্তা করতাম। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি আমার ভাইদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের এই মহানায়ক সেদিন শিশুর মতো আবেগে আপ্লুত হয়ে আনন্দ-বেদনার অশ্রæধারা ঝরিয়েছিলেন তার দুচোখ বেয়ে। আর অন্যদিকে প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রæতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন এই প্রিয় নেতাকে।
লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধুর দিল্লিতে যাত্রা বিরতির সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে স্বাগত জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এই সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সর্বাধিক সহযোগিতার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন দলের নেতা ও ভারতীয় জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেই সঙ্গে এদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছেন। অবশেষে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু প্রাণভরে বাংলার বায়ুমণ্ডলের বিশুদ্ধ শ্বাস-প্রশ্বাস নিলেন এবং সঙ্গে বাঙালি জাতি ফিরে পেলেন তাঁদের পথ প্রদর্শক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এক নব্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে দিল্লির লাল গালিচা সংবর্ধনা আয়োজন প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সাংবাদিকরা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে মিসেস গান্ধী সেদিন দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, যাঁর ডাকে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশকে আবিষ্কার করেছেন তিনি তখন আর শুধু নব্য স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি নন, তিনি হয়ে ওঠেছেন বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণের অধিকার আদায়ের অগ্রদূত হিসেবে একজন মহান নেতা। বর্তমানে আমি বলতে চাই, সেদিন বাংলাদেশ যদি শত্রæমুক্ত না হতো বঙ্গবন্ধু হয়তো বা প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরে আসতে পারতেন না এবং অন্যদিকে বাঙালিরাও স্বাধীন বাংলাদেশের ঠিকানাও হয়তো সেদিন নির্ণয় করতে পারতেন না। বাঙালি যে বঙ্গবন্ধুকে কতটুকু ভালোবেসেছে তা একবার দেখা গিয়েছিল ৭ মার্চের ভাষণে, অন্যবার ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর একে একে অস্ত্র জমা নেয়া, পাকিস্তানি সৈন্যদের ফিরিয়ে দেয়া, ভারতীয় মিত্রবাহিনী সৈন্যদের প্রত্যাহার, বিদেশের সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে দেশকে তাঁর স্বপ্নমতো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে প্রাণ দিতে হলো দেশ-বিদেশের প্রতিক্রিয়াশীল এক চক্রের হাতে। মৃত মুজিব থেকে জীবিত মুজিব যে কত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রটি হয়তো বা এখন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। পরিশেষে আমি শুধু এইটুকুই বলতে চাই- বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী পার করে হীরকজয়ন্তী কিংবা শতবর্ষ পূর্তিতেও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বাঙালি জাতিকে বারবার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে একটি উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, জাতির কাছে এই প্রত্যাশাটুকু রাখছি।

সঞ্জয় চৌধুরী : শিক্ষক ও লেখক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়