প্রথম কোরিয়ান হিসেবে গোল্ডেন গ্লোবস পেলেন অভিনেতা ও ইয়েং সু

আগের সংবাদ

মাভাবিপ্রবি’র উপাচার্য জাবি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন

পরের সংবাদ

ভুল চিকিৎসায় বাচেনাকে খেসারত দিতে হলো ২০ বছর

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ৮:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

ভুল অপারেশনে পেটে কাঁচি নিয়ে বাচেনা খাতুনের কেটে গেছে ২০টি বছর। নানা জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও সুস্থ্য হতে পারছিলেন না তিনি। শেষ সহায় সম্বল বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য যান রাজশাহী। সেখানে তার পেটে পাওয়া গেল সার্জিক্যাল কাঁচি। চিকিৎসকের ভুলে বাচেনাকে খেসারত দিতে হয়েছে দীর্ঘ কুড়ি বছর। ২০ বছর ধরে পেটে কাঁচি বয়ে বেড়ানোর যন্ত্রণা থেকে অবশেষে মুক্তি মিলেছে বাচেনা খাতুনের (৫০)।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ওয়ালিউর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাচেনার পেট থেকে কাঁচি অপসারণ করেন।

অস্ত্রোপচারের পর বাচেনা খাতুনকে জেলা হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ওয়ালিউর রহমান বলেন, বাচেনা খাতুনের পেট থেকে আর্টারি ফরসেপসটি সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি আপাতত আশঙ্কামুক্ত।

বাচেনা খাতুনের পেটের এক্স-রে। ছবি: সংগৃহীত

ভুক্তভোগী বাচেনা খাতুন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের নওদাহাপানিয়া গ্রামের আবদুল হামিদের স্ত্রী। সোমবার বিকেলে সদর হাসপাতালে কথা হয় বাচেনার পুত্রবধূ রোজিনা খাতুনের সঙ্গে। রোজিনা গণমাধ্যমে বলেন, ২০ বছর আগে তাঁর শাশুড়ির পিত্তথলিতে পাথর হয়। সে সময় মেহেরপুরের গাংনী শহরের রাজা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথর অপসারণ করা হয়। কিন্তু পেটের ভেতরে কাঁচি রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। সেই থেকে তাঁর শাশুড়ি পেটের ব্যথায় প্রায়ই ছটফট করতেন। মনে করতেন, গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা। গ্যাস্ট্রিক উপশমের ওষুধ খেতেন।

সম্প্রতি ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বাচেনা খাতুনকে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করলে বাচেনার পেটের ভেতরে কাঁচির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে অস্ত্রোপচার ছাড়াই রাজশাহী থেকে ফিরে আসেন। ৪ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির ছয় দিন পর আজ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কাঁচি অপসারণ করা হয়।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়