আজকের সংবাদপত্র পর্যালোচনা

আগের সংবাদ

ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে টাইগাররা

পরের সংবাদ

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ (ভিডিও)

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২২ , ১২:০৮ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ জন। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বৈটতল দক্ষিণপাড়া এলাকায় খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় ভ্যানে থাকা ৩ নারী শ্রমিকসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১০ জানুয়ারি) ভোড় ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, আলামপুর হালদারপাড়া এলাকার আজিজুলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩০), ভাদু মোল্লার মেয়ে রোজিনা খাতুন (২৭), মনোরঞ্জনের স্ত্রী স্বপ্না রানী (৪৫) ও স্বস্তিপুর এলাকার হজেল হোসেনের ছেলে ভ্যানচালক মুক্তার হোসেন (৫০)। এই ঘটনায় তহমিনা খাতুন নামের আরেক নারী শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইদ্রিস আলি জানান, প্রতিদিনের মতোই ভ্যানযোগে নিজ বাড়ি আলামপুর থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ৪ নারী শ্রমিক। ভ্যানটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বৈটতল দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌছলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঝিনাইদহগামী দ্রুতগতির একটি ড্রাম ট্রাক ভ্যানটিকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে ৩ নারী ও ভ্যানচালক নিহত হয়।

এই ঘটনায় তহমিনা খাতুন নামের আরেক নারী শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত ও আহতরা সবাই জাপান টোবাকো নামের একটি তামাক কোম্পানিতে কাজ করত। ঘাতক ড্রাম ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-প্রাগপুর সড়কে একটি বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। পরে উত্তেজিত লোকজন ট্রাকটিতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন। রবিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার তারাগুনিয়া কৈপাল নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৌলতপুর উপজেলার কৈপাল গ্রামের হজরত আলীর ছেলে বিদ্যুত (৩০) ও একই গ্রামের খেড়ু মালিথার ছেলে রাজন (৩৫) রবিবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে পাশের বাজার হোসেনাবাদ থেকে তারাগুনিয়া বাজারের দিকে আসছিলেন। তারা কুষ্টিয়া-প্রাগপুর আঞ্চলিক সড়কের কৈপালে ঈদগাঁহ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ড্রাম ট্রাক (কুষ্টিয়া-ট-১১-২৭৩৮) মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী ওই দুই যুবক সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। এরপর ট্রাকটি তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলে তারা দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। পরে বেপরোয়া ট্রাকটি কিছুদূর এগিয়ে গেলে অল্পের জন্য যাত্রীসহ একটি পাখি ভ্যান আরেকটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়।

দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাটক ট্রাকটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে আগুন জ্বালিয়ে দেন। এ সময় ট্রাক চালক ও হেলপার উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কৌশলে মিশে গিয়ে একপর্যায়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে ঘাতক ট্রাকটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা কুষ্টিয়া-প্রাগপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কের দুই প্রান্তে বহু গাড়ি আটকে পড়ে। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করার চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কটি অবরোধের পর পুলিশের হস্তক্ষেপে রাত ১১টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। পরে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। পুলিশ নিহত বিদ্যুত ও রাজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে তাদের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান রাত ১১টার পরে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাক চালক ও হেলপার জনরোষ এড়াতে পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়