ভারতে এবার করোনা শনাক্ত দেড় লাখ ছাড়াল

আগের সংবাদ

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

পরের সংবাদ

শারীরিক সম্পর্কে অসম্মতি দেয়ায় প্রেমিকা ও তার মাকে খুন করে আনোয়ার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ২:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ২:১৮ অপরাহ্ণ

অবৈধ যৌন কামনা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে বাধা দেয়াতেই মোছা. আকলিমা আক্তার ওরফে স্বপ্নাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় স্বপ্নার মা মোছা. জয়ফুল বেগমকেও একই উপায়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় খুনি। জামালপুরের মেলান্দহে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে জোড়া খুন মামলায় খুনি মো. আনোয়ার হোসেনকে (৩৬) গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

রবিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে মালিবাগের সিআইডির প্রধান কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার মালিবাগের সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন সিআইডি’র এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর। ছবি : ভোরের কাগজ

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গত ১ জানুয়ারি জয়ফুল বেগমকে ওমানপ্রবাসী দুই ছেলে- মো. হাসান চৌধুরী (২৮) ও মো. খালেক চৌধুরী (২৮) ফোন করে। মা ফোন না ধরায় তারা বোন আকলিমাকে ফোন দিলে তিনিও ফোন না ধরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে দুই ভাই। মা-বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের মামা মো. মানিক মিয়াকে তাদের বাড়িতে পাঠান। বাড়ি গিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তার ঘরের দরজা খুলে প্রবেশ করলে পৃথক দুটি কক্ষে বোন ও ভাগ্নির গলাকাটা লাশ দেখতে পান তিনি। পরে মো. মানিক মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মা-মেয়ে জোড়া খুনের বিষয়টি গণমাধ্যমে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে সিআইডি এলআইসি শাখা তদন্ত শুরু করে।

মুক্তা ধর আরও বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যার ঘটনাটি কেন ও কীভাবে সংগঠিত হয়েছে, ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, কারও সঙ্গে পারিবারিক-বাবসায়িক বিরোধ ছিলো কিনা- সেসব প্রশ্নের উত্তর ভিকটিমের পরিবার, ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার বিভিন্ন উৎস থেকে সরেজমিনে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করে সন্দিগ্ধ আসামি মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে ঘটনার যোগসূত্র পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় যে, প্রায় পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে অবস্থানকালে মামলার ভিকটিম স্বপ্নার সাথে মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচয়ের সূত্রধরে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন যাবৎ আনোয়ার হোসেন স্বপ্নার সাথে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলেও স্বপ্নার জোরালো অসম্মতির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।

জামালপুরের মেলান্দহে মা-মেয়ের জোড়া লাশ

প্রায় ২০-২৫ দিন ধরে আনোয়ার হোসেন স্বপ্নার বড় ভাই মো. জহুরুল চৌধুরীর বাড়ি নির্মাণের কাজ করে আসছিলো। ঘটনার দিন ১ জানুয়ারি স্বপ্না আসামি আনোয়ারকে ডেকে বলে, তার ও তার মায়ের প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা করছে। সে যেন কাজ শেষ করে তাদের জন্য ওষুধ নিয়ে আসে। কাজ শেষে সন্ধ্যার পর আনোয়ার তাদের বাড়ি গিয়ে স্বপ্নার সাথে গল্প করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্বপ্না ও তার মায়ের রাতের খাবার শেষ হলে আনোয়ারের কাছে ওষুধ চাইলে- আনোয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সঙ্গে নিয়ে আসা ঘুমের ওষুধ মাথা ব্যাথার ওষুধ হিসেবে মা-মেয়েকে তিনটি করে ট্যাবলেট দেয়। স্বপ্না ও তার মা আনোয়ারের কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ খেয়ে একই রুমে ঘুমিয়ে পড়ে। তখন দীর্ঘদিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা আনোয়ার হোসেন তার অবৈধ যৌন কামনা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যে অচেতন স্বপ্নাকে কোলে করে তার মায়ের রুম হতে পাশের রুমে নিয়ে যেতে থাকে। এর একপর্যায়ে স্বপ্না জেগে যায়। তখন আনোয়ার জোরপূর্বক তার সাথে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করলে প্রাণপণে বাঁধা দেয় স্বপ্না।

আর- এআরজেড / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়