শেখ হাসিনা সরকারের বর্ষপূর্তি > ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় নির্বাচন : বিচিত্র ভাবনা

আগের সংবাদ

সুস্থ হয়ে নিজেকে চিনতে পারেননি দীপিকা

পরের সংবাদ

পাহাড়ে শান্তি ফিরবে কবে?

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলো ব্যস্ত আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং খুন-খারাবিতে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় গত ২৪ বছরে খুন হয়েছে ৪৬৭ জন। এর মধ্যে ৩২৭ জন পাহাড়ি এবং ১৪০ জন বাঙালি। আহত হয়েছে মোট ১ হাজার ২১৬, যার মধ্যে বাঙালি ৮২৪ এবং পাহাড়ি ৪৭২। অথচ শান্তিচুক্তি হওয়ার পর এই হত্যাযজ্ঞ থেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো সেই অস্ত্রের দামামা। চাঁদাবাজি ও অপহরণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলছে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত। প্রশাসনের অদৃশ্য ভূমিকা পালনের কারণে দিন দিন আরো বেড়ে উঠেছে পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। ইতোমধ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৪ বছর পূর্তি হয়েছে। চুক্তির ৭২টি ধারার ৪৮টিই পূর্ণাঙ্গ এবং ১৫টির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ পাহাড়িদের জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু শান্তিবাহিনীর আদলে সশস্ত্র গ্রুপগুলো সক্রিয় রয়েছে। প্রতিনিয়ত খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করে চলেছে এসব গ্রুপ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত তিন জেলার মোট আয়তন ৫ হাজার ৫০০ বর্গমাইল। জনসংখ্যা মাত্র ১৬ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ বাঙালি আর বাকি ৮ লাখ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শান্তিচুক্তির আগে ২৪ বছরে শান্তিবাহিনীর হাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৪৩ জন মারা যান। ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি দলের ৫ নেতাকে হত্যা করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। কিছুদিন পরপরই অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যাঞ্চল। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটছে প্রাণহানি। পার্বত্যাঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেরাই পারস্পরিক দ্ব›েদ্ব লিপ্ত থাকছে সবসময়। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে বন্দুকযুদ্ধ ও অপহরণের ঘটনা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সে সময়কার বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তি বাহিনীর ২ হাজার সশস্ত্র কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অবসান ঘটে অব্যাহত রক্তপাতের। দুঃখজনক ব্যাপার, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখনো এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের দিকে সবসময় বন্দুক তাক করে থাকছে। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে পাহাড়ি জনপদে অপহরণ, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, জমি দখলের খবর। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করে এর সুফল দৃশ্যমান করতে হবে পার্বত্যবাসীর কাছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়