প্রথমবারের মতো ইরান সফরে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

আসুন এই সময়কে উপভোগ করি

পরের সংবাদ

ওমিক্রনে আতঙ্ক নয় সচেতনতা জরুরি

ফজলে রাব্বি

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে সর্বপ্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকলে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। সূচনা ঘটে চারদিকে আতঙ্ক আর স্বজন হারানোর দুঃখ-বেদনার এক নতুন ট্র্যাজেডির। জীবনের ঝুঁকি এবং দায়িত্ব পালনের স্পৃহা নিয়ে মহামারির শুরু থেকেই চিকিৎসক, নার্স, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিরত সেবা দিয়েছেন। চিকিৎসকরা পিপিই পরিধান করে নিজে আক্রান্ত হওয়ার কথা না ভেবে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছেন। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে কয়েকজন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারো বাসায় চাল-ডাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, জরুরি ওষুধের প্রয়োজন মেটানো আবার লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেজন্য তারা আপামর জনতার কাছ থেকে পেয়েছেন সুনাম এবং একমুঠো ভালোবাসা। বহু কর্দমাক্ত পথ আর ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে দেশে কমতে শুরু করে করোনার প্রকোপ। সরকার লকডাউন উঠিয়ে নেয়, জনজীবন হয় স্বাভাবিক। লকডাউন উঠে গেলেও চালু হয়নি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। দীর্ঘ সময় বন্ধের পর অনলাইন পাঠদানের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিতে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার বা ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা। এ বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান। কিন্তু এরই মধ্যে আবার দেখা দিয়েছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ওমিক্রনের সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে এবং মুহূর্তেই আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের মানুষজন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তারা পূর্বের ন্যায় বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জারি করেছে কারফিউ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওমিক্রনের প্রভাবে দেশের পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হতে পারে।
কয়েকদিন আগে আক্রান্তের হার নিম্নগামী থাকলেও ৭ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১৪৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন বন্ধে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে এবং মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট হয়েছে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর একাডেমিক শিক্ষাজীবন নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে গিয়ে শেষ হবে। এর প্রভাব তাদের চাকরিজীবনে পড়তে বাধ্য। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করানো হয়নি বলে বর্তমানে পাবলিক পরীক্ষাগুলো সব সাবজেক্টের ওপর নেয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে যদি আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো হবে। দেশের সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়বে। করোনার প্রভাব কমতে শুরু করায় সরকারিসহ নিয়োগ পরীক্ষাগুলো শুরু হয়েছে। ওমিক্রনের সংক্রমণে সেগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে দেশে বেকারত্বের হার দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ হয়ে যেতে পারে। সরকার যদি আবারো দেশে লকডাউন ঘোষণা করে তাহলে অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনিতেই লোকজন করোনার প্রথম ঢেউয়ের ধস কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সহায়-সম্বল হারিয়ে শহরে বসবাস করা অনেকেই হয়েছেন গ্রামমুখী। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ওমিক্রনের সংক্রমণ এড়াতে নিয়মিত মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানায় জোর দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে শাস্তির আওতায় আনা যেতে পারে। সরকারের এ মুহূর্তে উচিত হবে টিকার আমদানি বাড়ানো। যাতে দেশে টিকা সরবরাহে বিঘœ না ঘটে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব জনগণকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনতে সময়োপযোগী পদক্ষেপের পাশাপাশি রাষ্ট্রের জনগণকে সচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে সাবধানের মার নেই। তাই নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি এবং ওমিক্রনের সংক্রমণ থেকে দেশ ও দেশের মা, মাটি ও মানুষকে রক্ষা করি।
ফজলে রাব্বি
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়