ফিলিপাইনে টিকা না নিলে ‘গ্রেপ্তার করা হবে’: দুতার্তে

আগের সংবাদ

মাই নেম ইজ খান : নিয়তির আঁকড়ে থাকা পরিচয়

পরের সংবাদ

নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের অবস্থান : ফেলানী হত্যার বিচার প্রসঙ্গ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২২ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০২২ , ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না সীমান্তে হত্যাকাণ্ড। কিছুদিন পরপরই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বাংলাদেশি নাগরিক। প্রায়ই সীমান্তে বাংলাদেশিদের ওপর নেমে আসে নানা নির্যাতন। এই অব্যাহত হত্যা-নির্যাতন আর কত দিন? খুবই উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন সময় ভারত সরকার সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যে নামানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রæতি দিলেও তার কোনোই ছাপ বাস্তবে চোখে পড়ে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে এটা কেমন আচরণ? এদিকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও সুরাহা হয়নি বিচারের। ফেলানী হত্যা মামলার আইনজীবী ও পরিবারের অভিযোগ, আত্মস্বীকৃত খুনি ও বিএসএসফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দুবার বেকসুর খালাস দিয়েছেন ভারতের আদালত। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন ফেলানীর বাবা। আদালত রিটটি গ্রহণ করে শুনানির দিনও ধার্য করেন। কিন্তু শুনানি কয়েক দফা পিছিয়ে গত তিন বছরেও কার্যতালিকায় নেননি সুপ্রিম কোর্ট। সীমান্তে চোরাচালান বা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ রোধ করা সীমান্তরক্ষীদের দায়িত্ব। এর অর্থ এই নয় যে কাউকে চোরাচালানি বলে সন্দেহ হলেই তাকে গুলি করে হত্যা করতে হবে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারি গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে ফেলানী। বাবার হাত ধরে ভারতের বঙ্গাইগাঁও গ্রাম থেকে বাংলাদেশে কলোনীটারির বাড়িতে আসার পথে ৭ জানুয়ারি ভোরে ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী। প্রায় ৪ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানীর নিথর দেহ। সেই ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর কাড়ে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপে ঘটনার আড়াই বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফের সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিচারে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ তার পরিবার। সীমান্তহত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার জন্য ভারত প্রতিশ্রæতি দিয়েছে। ২০১৮ সালে করা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার প্রশ্নে দুই দেশ একমত হয়। বাস্তবে সীমান্তহত্যা বন্ধ হয়নি। ফেলানী হত্যা ঘটনার পরও বিএসএফ দায়মুক্তির সুযোগ পেয়েছে। বিচার এমনভাবে হয়েছে যে, দায়মুক্তি প্রতিষ্ঠিত করেছে। একদিকে ফেলানীর মামলা নষ্ট হয়েছে, আরেক দিকে রিটটিও সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে। এ ধরনের হত্যা বন্ধের জন্য যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না। দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক ও আরো অনেক রকম যোগাযোগ। এ যোগাযোগ ও সম্পর্ক রক্ষা কীভাবে আরো সহজ ও নির্বিঘœ করা যায়, সেটি হওয়া উচিত সীমান্তের মূল এজেন্ডা। অথচ আমরা দেখছি সীমান্তে পাখি মারার মতো করে গুলি করে মানুষ মারা হচ্ছে। আমরা আশা করব সীমান্তে বিএসএফের গুলি বন্ধে ভারতীয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখাবে। নিজেদের অধিকার ও স্বার্থের ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান কাম্য।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়