আর্থ-সামাজিক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্বে আজ দেশ

আগের সংবাদ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীতে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে

পরের সংবাদ

শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুতের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২২ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২২ , ৭:২১ অপরাহ্ণ

টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে তিনি ভাষণ দেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ও রেডিও স্টেশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

ভাষণের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দেশবাসীকে খ্রিষ্টিয় নতুন বছর ২০২২-এর শুভেচ্ছাও জানান তিনি।

এরপর তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত পারিবারিক সদস্যদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাছাড়া ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে স্মরণ করেন তিনি। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন আমি তাঁদের স্মরণ ও আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম, আমরা তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা আপনাদের মনে আছে। তখন সাকুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পায়রাতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট হাজার ৮০০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

এসময় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলীকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। নববর্ষের শুরুতে আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে: বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে তার পরিমাণ ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়