করোনায় মৃত্যু কমলেও বাড়ল শনাক্ত

আগের সংবাদ

বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়

পরের সংবাদ

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ দরকার: সিপিবি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২২ , ৬:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২২ , ৬:০৮ অপরাহ্ণ

মানুষের ভোট-ভাতের অধিকার, ভোটাধিকার, বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো এখনকার সময়েও আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের দরকার বলে মন্তব্য করেছেন কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলনের উদ্বোধনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ে বিশাল গণজাগরণ সংগঠিত করতে হবে।

সকাল ১০টায় মুক্তিভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন সেলিম। এ সময় প্রস্তুতি পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান হীরা দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘দুঃশাসন হটাও, ব্যবস্থা বদলাও, বিকল্প গড়ো’।

কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জলি তালুকদারসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও শাখা থেকে আগত নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, আজ দেশ যেমন দুই ভাগে ভাগ হয়েছে, হয়ে আছে, তেমনি ঢাকা শহরও দুই ভাগে ভাগ হয়ে রয়েছে। একদিকে রয়েছে ৯৯ শতাংশ মানুষ, যারা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে রয়েছে ১ শতাংশ বিত্তবান, যারা লুটেরা।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে আমরা বলেছিলাম এক দেশে দুই অর্থনীতি চলতে পারে না। বাংলাদেশে এবং ঢাকা শহরে দুইটা অর্থনীতি হয়ে গেছে। আমরা ৫৪ ভাগ বাঙালির অধিকার আদায়, ন্যায্য হিস্যা অধিকার আদায়ের জন্য একাত্তর সালে যেমন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সংগ্রাম করেছি।

আজ ৯৯ ভাগ মানুষের ন্যায্য হিস্যা অধিকার আদায়ের জন্য একইভাবে আমাদের সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন। সেই সংগ্রাম করতে না পারলে আমরা বাঁচতে পারব না। মানুষকে বাঁচাতে পারব না। দেশকে রক্ষা করতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছিল, তারা কারা? তারা ছিল কারখানার শ্রমিক, গ্রামের কৃষক, ক্ষেতমজুর, ছাত্র-যুবক, মেহনতি মানুষ। অস্ত্র হাতে এরা যুদ্ধ করেছিল। অথচ অল্প কিছু মানুষ আজ ধনী হয়েছে, লুটপাট করছে। তারা দেশের মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করছে।

আমরা বলেছিলাম, কেউ খাবে তো, কেউ খাবে না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পর সেই স্লোগানকে জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে। একাত্তর সালে গণমানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ যদি ন্যায়সঙ্গত হয়ে থাকে, তাহলে আজকেও ৯৯ ভাগ মানুষের মুক্তির সংগ্রাম করাও যুক্তিসঙ্গত।

সেলিম বলেন, জনগণের ভোট ও ভাতের সংগ্রাম রোধ করার জন্য সরকার মানুষের কণ্ঠস্বর রোধ করছে, নিপীড়নের স্টিম রোলার চালিয়ে তাদের দমন করার চেষ্টা করছে। দেশে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসন চলছে।

দুঃশাসন হটাতে হবে, ব্যবস্থা বদলাতে হবে, জোট-মহাজোটের বাইরে বিকল্প শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ কাজে কমিউনিস্ট পার্টিকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পার্টিকে সেজন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ১১টায় মৈত্রী মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়।

টিআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়