মেট্রোরেলের প্রতীক্ষায়

আগের সংবাদ

বাংলাদেশের ইতিহাস, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়

পরের সংবাদ

সংসদে প্রাণ ফেরাতে : সংসদীয় কমিটি ভূমিকা রাখতে পারে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে সংসদ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অধিকাংশের অনুপস্থিতির কারণেই এই অবস্থা। তাছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিল না থাকায় যুক্তিতর্ক নেই সংসদে। এ কারণে সংসদ কার্যক্রমে কোনো ‘উষ্ণতা’ নেই। গতকাল ভোরের কাগজের এক প্রতিবেদনে বিরোধী দলের এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিটি সংসদে অকাট্য যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে একাদশ সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে ডজন ডজন বিল পাস হয়েছে। গড়ে মাত্র ৩২ মিনিট সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয় সংসদে। একাদশ সংসদের এ পর্যন্ত ১৫টি অধিবেশনে ৮০টির বেশি বিল পাস হয়েছে। গত ১৪তম অধিবেশনের ৯ কার্যদিবসে ৯টি বিল পাস হয়। আবার ১৬ কার্যদিবসে ২০টি বিল পাসেরও রেকর্ড রয়েছে একাদশ সংসদে। প্রয়াত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘কার্যকর জাতীয় সংসদ ও বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে না। জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ না দেয়ায় বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগসহ রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গগুলো আজো জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি।’ স্যারের এ বক্তব্য এখনো প্রাসঙ্গিক। বিষয়টি নতুন করে ভাবনায় নেয়া যায়। একসময় সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি ছিল ভয়াবহ। বর্জনের সংস্কৃতি বিদায় নিলেও কার্যকর হয়নি সংসদ। এর ফলে সুশাসনেও ঘাটতি থেকে গেছে। নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ নিয়েও কথা উঠছে। স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ কী। শুরুতেই চাই সরকারি দলের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রয়োজনে ছাড়। এটা নিশ্চিত করা গেলে আর কোনো আলোচনারই অবকাশ থাকে না। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের আগ্রহও এখন কমে গেছে। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুফল পেতে হলে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী বিরোধী দল, যার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে ক্ষমতার ভারসাম্য। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে যদি অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের দায়িত্ব দেয়া যায়, এর ইতিবাচক প্রভাব সংসদের বাইরে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমেও পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি অন্যান্য বিষয়ে। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সভাপতি মনোনীত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অব্যবহিত আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। বিগত সময়ে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো বিভিন্ন কারণে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে সমর্থ হয়নি। সর্বোপরি সংসদ কার্যকর করতে সংসদীয় কমিটিগুলোকে সচল হতে হবে। তারাই সংসদে প্রাণ ফেরাতে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা দেখতে চাই, প্রত্যাশিত ভূমিকায় একাদশ জাতীয় সংসদ হয়ে উঠছে প্রাণবন্ত।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়