ওমিক্রনকে অবহেলা করলেই বিপদ, সতর্কতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আগের সংবাদ

ধলেশ্বরীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১২

পরের সংবাদ

বাড়ি বসে কাজ করে ক্লান্ত, ঘুরে আসুন শহর ছেড়ে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১:১২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১:২০ অপরাহ্ণ

তার আর পর নেই। আছে শুধু করোনা। এমনই মনের হাল অধিকাংশের। ভ্রমণপ্রেমী বাঙালির মাসের পর মাস ধরে বসে দমবন্ধ হাল। কোনও পাহাড়ে যাওয়া নেই। সমুদ্রে গোসল করা নেই। কথায় কথায় রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়াও নেই। এমন করে আর কত দিন? একঘেয়েমি কাটানোর উপায় তো চাই!

পথ বের করে ফেলেছেন এ শহরের একদল ভ্রমণপ্রেমী। কী করছেন তারা? ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলেই স্বাদবদলের ব্যবস্থা হচ্ছে। শহরের বাইরে কোথাও যাচ্ছেন না। তাতে ট্রেন-বিমানে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। নিজের গাড়ি হোক কিংবা ভাড়ার, তার ভরসায় ছুটি কাটাচ্ছেন এ শহরেরই কোনও সুন্দর হোটেলে। কেউ কেউ তো আবার সঙ্গে কাজ নিয়েই চলে যাচ্ছেন।

কিন্তু যাচ্ছেন কোথায়? দুরে কোথাও নয়। শহরের মধ্যে হোটেল কিংবা রিসোর্টে গিয়েই তারা কাটাচ্ছেন দুটো দিন। মনের মতো একটা ঘর নিচ্ছেন। সঙ্গী হচ্ছেন পরিবার বা বন্ধুরা। আড্ডা দিচ্ছেন মন ভরে। তাতেই রোজ জীবনের একঘেয়েমি কাটছে। বিশেষ ঘুরাফেরার বিষয় নয় এটি। শুধু বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে অন্য একটি ঠিকানায় দুদিন কাটিয়ে আসা। তাই একে ‘ভেকেশন’ বলতে চান না কেউ। এমন ভ্রমণ পরিচিত ‘স্টেকেশন’ নামেই। একই শহরে থেকেও রোজ জীবনের একঘেয়ে ছন্দে কিছুটা বদল। গৃহবধূ মিলি আক্তার কিছু দিন আগেই সপরিবার কাটিয়ে এসেছেন গুলশানের এক বিলাসবহুল হোটেলে। রাজকীয় ঘর এবং আপ্যায়ন উপভোগ করেছেন দুদিন ধরে। ফিরে এসে বলছেন, ‘‘গুলশানের এক বন্ধু এমন একটি সপ্তাহ কাটিয়েছিল সেখানকার হোটেলে। তা দেখেই ভাবলাম আমরাও যাই। দুটো দিন অন্তত রান্নাবান্নার কথা তো ভাবতে হল না। আর আমার ছেলেও খুশি। বাবা-মায়ের সঙ্গে একটু আনন্দ করতে পারল।’’

বিলাসবহুল হোটেলে কি সকলে থাকতে পারেন? তা পারেন না। তবে যারা বেড়াতে গিয়ে বিলাসবহুল হোটেলে থাকার কথা ভাবেন না, এমন অনেকেই এখন ভাবছেন। কারণ এ ক্ষেত্রে দুরে কোথাও যাতায়াতের খরচ নেই। ট্রেন বা বিমানের টিকিটের খরচ নেই। ফলে সবটাই দিচ্ছেন হোটেল ভাড়ায়। যেমন মিলিরা মিরপুর থেকে গুলশানে গিয়েছেন নিজেদের গাড়ি করে। আবার আর একদল বন্ধু পুরান ঢাকা থেকে চলে গিয়েছিলেন গাজীপুরের এক রিসোর্টে। এক বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সেখানেই সপ্তাহ কাটিয়েছেন তারা। কেক কেটে, সুইমিং পুলের ধারে বসে মাঝরাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে মন এখন ফুরফুরে। সেই দলের একজন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান আবার বলছেন, ‘‘এর পরে মা-বাবাকেও নিয়ে যাব ভেবেছি। ওদেরও মন ভাল হবে। রোজ কি আর বাড়ি বসে টিভিতে ধারাবাহিক দেখতে ভাল লাগে!’’

তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সুরভী আক্তার আবার একাই থাকেন এ শহরে। পরিবার বলতে তেমন কেউ নেই। এ সময়ে বন্ধুরা বিশেষ দেখা করতে পারছেন না। তাই মন ভাল থাকে না সুরভীর। গত বছর টানা একা ঘরবন্দি হয়ে অফিসের কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অবসাদে ভোগেন। শেষে ঠিক করেন ঘুরে দাড়াতে গেলে নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে। এ শহরের প্রায় সব নামী হোটেলে এক-দুদিন করে থাকা হয়ে গিয়েছে তার। না, এত ছুটি নেই সুরভীর। কাজ করেন মাঝেমধ্যে হোটেলে বসে। বলেন, ‘‘মাঝেমাঝে ল্যাপ্টপ নিয়ে হোটেলের বেলকুনিতে চলে যাই। দুই-চার জন মানুষের মুখ তো দেখা যায় দুর থেকে। সেটাও এখন বড় পাওয়া।’’ শহর ছাড়িয়ে ল্যাপ্টপসহ সুরভী মাঝেমধ্যে চলে যাচ্ছেন একটু দুরেও। সিলেট, কক্সবাজার, সুন্দরবন থেকেও কয়েক দিন করে কাজ করেছেন সুরভী।

একঘেয়ে এই অতিমারির সময়ে এ ভাবেই নিজেদের মন ভাল রাখার ঠিকানা খুঁজছেন একদল বাঙালি। নেটমাধ্যমে সে সব ছবি দেখে নতুন ধরনের ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন আরও কয়েক জন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়