উন্নতির হুকুমদারি সংস্কৃতি

আগের সংবাদ

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

পরের সংবাদ

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা : ইসির কঠোর ভূমিকা দেখতে চাই

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২১ , ১:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২৯, ২০২১ , ১:১০ পূর্বাহ্ণ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছেই। রক্তাক্ত হচ্ছে নির্বাচনের মাঠ। চার ধাপের ইউপি নির্বাচনে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী ও সিলেটে তিনজন নিহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরো ৫৩ জন। ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই চেষ্টা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশও গুলি চালিয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা দৃশ্যমানও। কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, সিলের কালি সংকটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশবাসী উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে অগাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ়তার ওপর। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার পর্যায়ের অসংখ্য নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই নির্বাচনগুলোয় কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। অবাধ ও নিরপেক্ষ হিসেবেই ওই নির্বাচনগুলো স্বীকৃতি পেয়েছে। ৫ম ধাপে ৫ জানুয়ারি দেশের ৭০৭টি ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের দুদফায় ৩৬৯টি, ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৩টি এবং ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর ৮৪০টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে সংঘাতের মাত্রা আরো বাড়তে পারে। এছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগে হাইব্রিড প্রার্থীদের কারণে এই সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। আপামর জনগণের প্রত্যাশাও তাই। নির্বাচনের আগে ও পরে আপনাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা ভালো ভূমিকা থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আচরণবিধি প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন কিছু করবে না যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। শুধু নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছাতেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমনটি বলতে চাই না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, প্রার্থী ও ভোটারদেরও আন্তরিক হতে হবে। প্রার্থীদের উচিত হবে- বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, কারচুপি বা দখলদারিত্বের আশ্রয় না নিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকা। আর সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে সরকারের তেমন কিছুই আসে যায় না। সুতরাং গণতন্ত্রের স্বার্থে সবার মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত হোক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়