আবু রুশদ সাহিত্য পুরস্কার: আনোয়ারা সৈয়দ হক ও ওয়াসি আহমেদ নির্বাচিত

আগের সংবাদ

আত্মতুষ্টির সঙ্গে প্রয়োজন আত্মমূল্যায়নেরও

পরের সংবাদ

অরক্ষিত রেলক্রসিং মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১ , ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

রেলের অব্যবস্থা ও অনিয়মের একটি হলো অরক্ষিত রেলক্রসিং। প্রায়ই রেলক্রসিংয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের লেভেল ক্রসিংয়ে বাসে ট্রেনের ধাক্কায় এক শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮ জন। ঢাকা থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রেন যানজটের কারণে রেললাইনের ওপর আটকে থাকা আনন্দ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এমন ঘটনা দুঃখজনক। নারায়ণগঞ্জের মতো দেশের বিভিন্ন এলাকায় অরক্ষিত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে চলেছে। অথচ এগুলো সুরক্ষিত করার কোনো তাগিদ নেই। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৮৭৮ কিলোমিটার রেলপথে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০টি। এই অবৈধ ক্রসিংগুলো পুরোপুরিই অরক্ষিত। এগুলো দিয়ে পারাপার, রেললাইনের ওপর দিয়ে অবাধে চলাচলসহ নানা কারণে প্রতি বছর গড়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। রেলওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেনে কাটা পড়ে ও দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেলওয়ের উন্নয়নে গত এক যুগে ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হলেও লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা রোধে বড় অঙ্কের অর্থের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। এর ফলে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া লোকদের দ্বারাই বছরের পর বছর চলছে ক্রসিং রক্ষণাবেক্ষণ। এতে একটি দুর্ঘটনার রেশ না কাটতেই ঘটছে আরো একটি দুর্ঘটনা। এটাই যখন বাস্তবতা, তখন রেল কর্তৃপক্ষের করণীয় কী? এসব দুর্ঘটনা, প্রাণহানির দায় কার? দেশে রেলপথে রেলক্রসিং স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করার দায় আইনত কোন কর্তৃপক্ষের? বর্তমান বাস্তবতায় তাদের ভূমিকা কী। রেল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে বহু প্রকল্প গ্রহণের কথা আমরা শুনে আসছি। কিন্তু রেলের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা রেলক্রসিং সুরক্ষিত করার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না। বৈধ রেলক্রসিংগুলোতে গেটম্যান নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা কেন? আর অবৈধ রেলক্রসিংগুলোর ব্যাপারে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারা এগুলো স্থাপিত হয়। কিন্তু এগুলোতে অরক্ষিত মৃত্যুফাঁদ হয়ে তো থাকতে পারে না। অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধের ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথাও শোনা যায়। অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের ব্যাপারে আইন কী বলছে তা আমরা জানি না। তবে না জেনেও আমরা বলতে পারি, এসব ক্রসিংকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হবে। রেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে রেলক্রসিংগুলোকে অবশ্যই সুরক্ষিত করতে হবে। বৈধ রেলক্রসিংগুলোতে অবশ্যই গেটম্যান থাকা নিশ্চিত করতে, যেখানে নেই সেখানে দ্রুত নিয়োগ দানের ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈধ রেলক্রসিংগুলো আইনানুগভাবে বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে, নেহাত বন্ধ করা না গেলে যথাযথ অবকাঠামো ও গেটম্যান দিয়ে এগুলো সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে রেলগেট মরণফাঁদ হয়েই থাকবে, যা আমাদের কারো কাম্য হতে পারে না। রেলে নিরাপত্তার দিকটি অবশ্যই যথাযথ গুরুত্বসহ দেখা দরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়