খালেদা জিয়ার চিকিৎসা : মানবিক রাজনীতির জয় হোক

আগের সংবাদ

চলবে পরিবেশবান্ধব বাস, হবে আন্ডারগ্রাউন্ড বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

পরের সংবাদ

নৌপথ সুরক্ষিত হবে কখন?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২১ , ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০২১ , ১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

স্মরণকালের ভয়াবহ লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক। লঞ্চ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এত মৃত্যু, এত লাশের দায়ভার কে নেবে- সে প্রশ্ন সামনে আসছে। লঞ্চ দুর্ঘটনা মামলার কোনোটার কূলকিনারা হয়েছে বলে জানা নেই। পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশে লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে ৬৬০টি। এসব দুর্ঘটনায় মারা যান প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ। আহত হয়েছেন অসংখ্য। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ হয়েছেন আরো প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন। লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধ করা কি অসম্ভব? জানা গেছে, প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমভি অভিযান-১০ সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। চাঁদপুর ও বরিশাল টার্মিনালে লঞ্চটি থামে এবং যাত্রী ওঠানামা করে। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে এতে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন মুহূর্তেই পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে যায়। নৌদুর্ঘটনার ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর আমরা পাচ্ছি। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেই কিছু দিন আলোচনা হয়। স্বজনহারার আর্তি, মানুষের আহাজারি দেখি। এসব ঘটনা সংবাদমাধ্যমে বড় হেডলাইন ও টিভির স্ক্রিনজুড়ে প্রচার হয়। তারপর সেই একই দৃশ্য- লাশের সারি, অসহায় স্বজনের প্রলাপ-বিলাপ, নৌপথের বাতাস ভারি হয়ে ওঠা। এমন মর্মাহত ঘটনা আর দেখতে চাই না আমরা। নদীমাতৃক দেশে নৌযানই চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম আজো। দেশের মোট যাত্রী সংখ্যার ৩৫ শতাংশ নৌপথে চলাচল করে। মোট পণ্যের ৭০ ও তেলজাত দ্রব্যের ৯০ শতাংশ নৌপথে পরিবহন করা হয়। প্রতি বছর প্রায় ৯ কোটি মানুষ দেশের নৌপথে যাতায়াত করেন। যৌক্তিক কারণেই নৌপথ জনপ্রিয়, সহজলভ্য এবং আরামদায়ক ভ্রমণ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত অথচ এ নৌপথ কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিয়মিত প্রাণহানিরও। নৌদুর্ঘটনার ফলে আজ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়েও আমরা ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার কোনো শিক্ষা গ্রহণ করিনি। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই যথারীতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তদন্তের রিপোর্টও জমা হয়। কিন্তু সুপারিশমালার বাস্তবায়ন বা দায়ীদের শাস্তির নজির না থাকায় একই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লঞ্চ মালিক কিংবা মাস্টারদের বিরুদ্ধে মামলা হয় নৌ-আদালতে। বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (আইএসও-১৯৭৬) অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ দোষী ব্যক্তিদের পক্ষে শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে না। মামলাগুলো দীর্ঘদিন চলার পর নিষ্পত্তি হলেও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে এমন নজির নেই। তাছাড়া দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি নৌ-আদালতে মামলা করতে পারেন না। তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলা করতে হয়। নানা জটিলতার কারণে দায়ী কেউই শেষ পর্যন্ত শাস্তি পায় না। অভিযান-১০ দুর্ঘটনার তদন্তেও ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে বা যারাই দায়ী হোক তাদের অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়