জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের আবেদন শুরু ২৬ ডিসেম্বর

আগের সংবাদ

ভাইরাল সংস্কৃতি এবং আমাদের বিকৃত মানসিকতা

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নানা কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। রোহিঙ্গা সংকট একটি আন্তঃসীমান্ত এবং আঞ্চলিক সমস্যা। সুতরাং এ মানবিক সংকটের সমাধান করা বিশ্বের দায়িত্ব। বিশ্ব নেতাদের ভূমিকা না থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি অনেকটা থেমে গেছে। মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে কথা বলছে না উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। বরং দেশটির সঙ্গে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াচ্ছে। গত মঙ্গলবার রোহিঙ্গা সংকট ও পুনর্বাসনে করণীয় নিয়ে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্ব দ্বৈতনীতিতে রয়েছে। এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক নানা মাধ্যমে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে হবে। আরাকানের বাসিন্দা হিসেবে জাতিসংঘের সহায়তায় মিয়ানমারেই নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে মিয়ানমারসংক্রান্ত কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তারা। এর মধ্যে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তা আমাদের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে। খুন, ধর্ষণ, মাদক পাচার, শিশু পাচার, ডাকাতি, অপহরণ, পতিতাবৃত্তিসহ সব ভয়ংকর অপরাধের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে রোহিঙ্গারা। মিয়ানমার নিজেরাই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা এনজিওগুলো চায় না, ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠী চায় না এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়টি মিয়ানমার যেভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে তাতে গোপনে সমর্থন জানাচ্ছে চীন-রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তি। এমনকি বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক সংস্থাও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আত্তীকরণের উদ্ভট প্রস্তাব দিয়েছে। এই হাওয়ায় তাল দিচ্ছে জাতিসংঘও। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দফা সময় দিয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত, চীন, রাশিয়ারও উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ নিয়মিত কূটনীতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলেও সবাই চুপচাপ শুনছে, কোনো প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য। আমরা আশা করছি বিশ্ব নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান গুরুত্ব সহকারে নেবেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়