সাবরিনা হত্যার বিচার দাবিতে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন

আগের সংবাদ

চলতি দশকটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে কেন প্রয়োজন?

পরের সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ দায় কার?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২১ , ১:০২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ২১, ২০২১ , ১:০২ পূর্বাহ্ণ

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রতিদিন কম বেশি মৃত্যুর খবর আমরা পাচ্ছি। গতকাল ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, গত ১০ দিন ধরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দৈনিক রোগীর সংখ্যা ৫০-এর কম থাকলেও তা আবারো অর্ধশতকের ঘরে পৌঁছেছে। স্বাস্ত্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ জন। ৮ ডিসেম্বরের পর এই সংখ্যা ৫০-এর ঘরে উঠে। ওই দিন রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা সংকটে ডেঙ্গু বিষয়টি অনেকটা ঢিলেঢালা ছিল। ঢিলেঢালা পরিস্থিতি হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে অনেক মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এখনই মশক নিধনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দুই বছর আগে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ডেঙ্গু রোগে তখন ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখনো ডেঙ্গু জ্বরের কোনো প্রতিষেধক বের করতে পারেনি সরকার। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৫৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০১ জন। আর অন্যান্য বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন। চলতি বছর (১ জানুয়ারি থেকে ১৯ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৮ হাজার ১৭৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৭ হাজার ৯১৯ জন। প্রাণহানির মোট সংখ্যা ১০৩ জন। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু চোখ রাঙালেও, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের তৎপরতা এখনো আগের মতোই। যদিও ঢাকা সিটির দুই মেয়র ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাচ্ছেন বলে দাবি করছেন। গত বছর এডিস মশা নিয়ে সিটি করপোরেশন তৎপরতা দেখালেও, এ বছর তৎপরতা নামেমাত্র। ফলে ক্রমেই মশার বিস্তার বাড়ছে। এই ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরে যদি কোনোভাবে করোনা ভাইরাসের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, তাহলে কিন্তু মানুষের শেষ জায়গাটিও থাকবে না। আমরা দুই মেয়রের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কাজেই দেরি না করে মেয়রদ্বয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। প্রথমত, সবখানে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিধন এবং এডিসের বংশবিস্তার রোধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে- এ প্রত্যাশা নগরবাসীর।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়