চীন, মিয়ানমার ও উ. কোরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আগের সংবাদ

পাংশা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি উত্তম, সম্পাদক গোবিন্দ

পরের সংবাদ

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি নিশ্চিত না হলে এসডিজি অর্জন অসম্ভব

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১১, ২০২১ , ৭:০০ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১১, ২০২১ , ১১:১৫ অপরাহ্ণ

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতে বেশ উন্নতি হয়েছে। গড় আয়ু বেড়েছে, পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, নবজাতক ও প্রসূতিদের মৃত্যুর হার কমেছে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি সত্ত্বেও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেক্টরে পিছিয়ে রয়েছে দেশ। যেমন নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি-৬) লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। এ অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে বসবাসকারী মানুষের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির অধিকার রক্ষায় ওয়াস সেক্টরে বরাদ্দকৃত বাজেটের সুষম বন্টন এবং জাতীয় বাজেটে ওয়াস সেক্টরে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। ইএনজি-এসডব্লিউএ সিএসও ক্যাটালিটিক ফান্ড এর আওতায়, বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) ও ভোরের কাগজের যৌথ আয়োজনে শনিবার (১১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় : এসডিজি-৬ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র বার্তা সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্ল্যানিং কমিশনের ডেল্টা প্ল্যান এর চিফ কনসালটেন্ট ড. মো. জহিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সহযোগী সম্পাদক শামীম আব্দুল্লাহ জাহেদী, এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান প্রভাষ আমিন, ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) নির্বাহী পরিচালক মো. জাকারিয়া সুমন, প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. আবিদ আলভি জ্যাপ, ডরপ, ইএনজি-এসডব্লিউএ সিএসও রিপ্রেসেন্টেটিভ (অল্টারনেট) বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আমির খসরু, এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের প্রজেক্ট ফোকাল ইন্ট্রিগ্রিটি ম্যানেজমেন্ট অফিসার কাজী মনির মোশারফ, এসএনভি’র কেপাসিটি বিল্ডিং এন্ড ট্রেনিং এ্যাডভাইজার মেরিলিন কেকা অধিকারী, রুডো’র ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক মো. লুৎফর রহমান, ড্রিংক ওয়েল’র ফ্রেনচাইজি পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, বি-স্কেন’র সাধারণ সম্পাদক মোছা. সালমা মাহাবুব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) নির্বাহী পরিচালক মো. জাকারিয়া সুমন।

গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা

বৈঠকে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেছেন, যারা রাজনীতি করেন, দেশ সেবার দায়িত্ব শুধু তাদের একার নয়। সব অঙ্গনে সবাই মিলে দেশের কল্যাণে কাজ করা এই মূহর্তে সবচেয়ে জরুরি। পানি এবং স্যানিটেশন নিয়ে প্রতিটি সেক্টরে কাজ করতে হবে। স্বাস্থঝুঁকি এড়াতে বিপদ আসার আগেই সচেতন থাকতে হবে। মানুষের স্বাস্থ্যগত সব সমস্যার প্রধান কারণ সুপেয় পানির অভাব। এ কারণেই মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৯৯ সালে সরকার সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কিছু জাতীয় নীতিমালা হাতে নিয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেছে। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ দেশ। এর উপরে মানুষের কোনো হাত নেই। তবুও দূর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আমারা অনেকগুলো কাজ করতে পারি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসন, লবনাক্ত পানি দ্রুত অপসারণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা, ব্যাবহারযোগ্য পানির অপচয় রোধ করতে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পদক্ষেপ নেয়া, বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও বর্জ্য নদনদীর পানিতে না ফেলা এবং নদনদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যাবহারের উপযোগী করা। এসব পদক্ষেপ নিলে সুপেয় পানি সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান করা যায়। আশা করছি এ বিষয়ে সরকার এবং জনগণ যে যার জায়গায় থেকে সচেতন থেকে ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ডেল্টা প্ল্যানের চীফ কনসালটেন্ট মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বাজেটগুলো দেয়া হয় তা কীভাবে ব্যাবহার করা হবে এটা অনেকেই জানে না। এগুলো প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে যেগুলো পাশ হয় তা এন্যুায়েল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামর্ভূক্ত হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় প্রকল্পে যে টাকা দেয়া হয়, এই টাকা পুরোপুরি ব্যবহৃত হয় না। এটা রিভাইজ এ্যানুয়েল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে গিয়ে কমে আসে। তাই বাজেটটা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হওয়া জরুরি। কারণ, সঠিকভাবে খরচ না করায় প্রোজেক্ট রিজেক্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও মাঝেমধ্যে একনেকের বৈঠকে সবাইকে সতর্ক করেন বাজেটের টাকাটা যেনো সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মিঠা পানি আমরা পাচ্ছি না। এসডিজির যে গোল তার মধ্যে ১৩ নম্বর গোলে রয়েছে পরিবেশ। এখানে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন এই দুটো বিষয় যদি নিশ্চিত করা যায় তবে অন্য ৬টি সমস্যা- ক্ষুধা, দারিদ্র, স্বাস্থ্য দুষণমুক্ত জ্বালানি, টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এখনো পৃথিবীতে ২শ কোটি মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশ্বে প্রতিদিন ১০ হাজার করে শিশু সুপেয় পানির অভাবে মারা যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, অর্থ ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে এসজিডির যেই গোল এর জন্য পানি এবং স্যানিটেশনের সুবিধা নিশ্চিত করা সবার আগে জরুরী। সুপেয় পানির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলেই এসডিজির গোল পূরণ হবে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি-৬) অর্জন করতে হলে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা এখনো নিরাপদ পানি পাচ্ছি, কিন্তু ভবিষ্যতে পাবো কি না তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। দেশের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর যেভাবে নামছে তা আমাদের একটা সংকেত দিচ্ছে। ঢাকা শহরে আমরা বাসা-বাড়িতে যে পানি পাচ্ছি, সেখানে ৯০ শতাংশই সুপেয় নয়। পানি উত্তোলন থেকে শুরু করে শোধনাগার ও সরবরাহ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কোয়ালিটি সম্পন্ন করছে কি না, তা কিন্তু আমরা জানিনা। এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নিরাপদ পানির জন্য যে প্রজেক্টগুলো ঢাকা শহরে তৈরি করা হচ্ছে, তা খুবই খারাপ। যেভাবে প্রজেক্টগুলো করার কথা, সেভাবে নিয়মনীতি অনুসরণ করে করা হচ্ছে না। ফলে অনেক অর্থ খরচেও এ প্রজেক্টগুলো সাসটেইনেবল হবে না। এক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব উপরিস্তরের পানির দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। যদিও এটা কঠিন বিষয়, তারপরও এটাতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী নজর দিতে হবে। কারণ আমরা যদি নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনে পিছিয়ে থাকি, তাহলে আমরা নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পাাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী উন্নত জাতি হওয়ার দৌড়েও পেছনে পড়ে থাকবো।

ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত এবং এসব বিষয়ে অধিকার আদায় ও সচেতনার ক্ষেত্রে যেসব সরকারি বেসরকারি সংগঠন এ ধরনের সার্ভিস দিচ্ছে তাদের সঙ্গে সহযোগীতামুলকভাবে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। এখানে ওভারঅল পলিসি ইস্যু জড়িত। বাজেট ইস্যু জড়িত। এজন্য সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। নাগরিকের এসব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি সুস্থ সবল উন্নত জাতি গঠন সম্ভব হবে।

এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান প্রভাষ আমীন বলেন, পানির জন্য লড়াইটা আমাদের অনেক পুরনো। তবুও ঢাকা শহরে পানির যে সংকট কয়েক বছর আগেই ছিলো সেই জায়গা থেকে এখন স্বস্তি মিলছে। আমরা সকাল বেলা পানির ট্যাপ খুলেই পানি পাচ্ছি কিন্তু আগামীর ভবিষৎ যারা আছেন বা আসছেন তারা এটা পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবনার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশে চারটা নদী রয়েছে, শুধু নদী নয়, ঢাকার মাঝখানে জালের মতো বিছানো খাল ছিলো। তা অনেক আগেই দখল করে আবাসন এবং রাস্তা বানিয়ে ফেলা হয়েছে। চারপাশের যে নদীগুলো আছে সেখানকার পানি খাওয়া তো দূরের কথা মাছও বাঁচতে পারে না। লেকের পানিগুলো ড্রেনের পানিতে ভরে গেছে। পরিকল্পনা করা হচ্ছে পদ্মা থেকে পানি এনে ঢাকার মানুষ ব্যাবহার করবে। এর চেয়ে বড় আত্নহনন আর কিছু হতে পারে না।

এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথের প্রজেক্ট ফোকাল ইট্রিগ্রিটির ম্যানেজমেন্ট অফিসার কাজী মনির মোশাররফ বলেন, এই মূহর্তে পৃথিবীর ৫শ ৫০ মিলিয়ন পপুলেশন বসবাস করছে অনিরাপদ পানি ব্যাবস্থাপনায়। এবং স্যানিটেশন ব্যাবস্থাও উন্নত নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্র তুলনা করলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়ায়। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে আমরা এসডিজি অর্জনে অনেকখানি পিছয়ে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রনয়ন করেছেন। এর মধ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হয়েছে, ভীষণ ২০৪১, ডেল্টাপ্ল্যান, সবগুলো নিয়ে আমার এগোচ্ছি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে এসডিজি-৬ অর্জন করার ক্ষেত্রে ৫-৬ বছর ইতোমধ্যে চলে গেছে। সামনে আছে ৯ বছর। এর মধ্যে কাজগুলো শেষ করা যাবে কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। এসিডিজি-৬ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যাবহার নিশ্চিত সম্ভব। সরকার সেযব পদক্ষেপ নিচ্ছে তার মধ্যে পানি এবং স্যানিটেশনের যে পলিসিগত ব্যাপার রয়েছে তার মধ্যে ইন্ট্রিগ্রিটি ম্যানেজমেন্টকে যুক্ত করা এবং প্রতিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার আওতায় এনে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। তাহলেই কেবল এসডিজি-৬ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।

এসএনভির কেপাসিটি বিল্ডিং এন্ড টেনিং অফিসার মেরিলিন কেকা অধিকারী বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ওয়াসাসহ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কেপাসিটি বিল্ডিং নিয়ে কাজ করছি। সিটি কর্পোরেশন তাদের বাজেট থেকে শুরু করে শহরবাসীদের পয়:বর্জ্য ব্যাবসস্থাপনা নিয়ে পারিকল্পনা মাফিক কাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে সমন্বয়ের ব্যাপারটা সবচেয়ে জরুরি। তিনি বলেন, ইন্ট্রিগেটর মিনিসিপাল যে সিস্টেমটা রয়েছে যেখানে সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা সমন্বয় করে শহরে কয়টা বাড়ি আছে, সেখানে কয়টা সেপটিক ট্যাংক, কয়টা টয়লেট রয়েছে সেগুলো পরিস্কার করে আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিটি শহরে সুবিধাজনক জায়গায় মানববর্জ্য শোধনাগার তৈরী করার ব্যাপারে নজর দেয়া জরুরি।

বি-স্কেন এর সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহাবুব বলেন, এখানে প্রতিবন্ধী মানুষের বিষয়টা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেভাবে উঠে আসে না। আমি নিজে একজন প্রতিবন্ধি হিসেবে বলতে পারি, এখানে প্রতিবন্ধী মানুষের যে মূল ধারণা, এটার সঙ্গে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা কম। সে জায়গা থোকে আমার কাছে মনে হয়, প্রতিবন্ধী মানুষ সম্পর্কে একটু বেসিক ধারণা দেয়া প্রয়োজন আছে। এর পাশাপাশি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং। প্রতিবন্ধি মানুষেরও এই জায়গায় কাজ করার আছে, তাদের সমস্যাগুলো কিন্তু তারাই ভালো বুঝতে পারেন। আমরা যদি বাজেটের বিষয়টি দেখি, সে জায়গা থেকে প্রতিবন্ধি মানুষের জন্য আলাদাভাবে বাজেট বরাদ্দ দেখতে পাইনা। যখন পয়োনিষ্কাষনের কথা বলা হচ্ছে, তখন হয়তো ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কথা বলা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ সব মানুষের মধ্যেও কিন্তু প্রতিবন্ধি মানুষ আছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, প্রতিবন্ধি মানুষের ভেতরেও নানা ধরনের নানা মাত্রার প্রতিবন্ধি মানুষ আছে। যারা গুরুতর প্রতিবন্ধি মানুষ। তারা কিন্তু নিরাপদ পানি থেকে ভিষনভাবে বঞ্চিত এবং ব্যাহত হয় তাদের অধিকার। সে জায়গা থেকে যদি প্রতিবন্ধি মানুষের বিষয়টি আলাদাভাবে না করা হয় তাহলে কিন্তু তাদের বিষয়টি গুরুত্ব পায়না। সেক্ষেত্রে কিন্তু ক্যাপাসিটি বিল্ডিংটা দরকার।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়