হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের সেনা সর্বাধিনায়কসহ নিহত ৫

আগের সংবাদ

মুশফিকের ২ রানের আক্ষেপ

পরের সংবাদ

নিখোঁজের ৪৮ ঘন্টা পরও সন্ধান মেলেনি ড্রেনে পড়া শিশুর

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২১ , ৩:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০২১ , ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীতে ড্রেনে পড়ে নিখোঁজের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি মো. কামাল নামে ১০ বছরের এক শিশুর। ফুটপাত ধরে হাঁটার সময় নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকার নালায় পড়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজ হওয়া পর মঙ্গলবার বিকেল থেকে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শিশুটির খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।

সোমবার রাত ৮টার দিকে প্রথমদিনের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হলেও বুধবার সকাল নয়টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার সোয়া ২ টা পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো শিশুটির সন্ধান দিতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, সোমবার বিকালে শিশুটি ড্রেনে পড়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে এক স্থানীয়দের কাছ থেকে এ বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। শিশুটিকে উদ্ধার করতে আমাদের তিনটি টিম কাজ করছে। নিখোঁজ শিশুটি এখনও পাওয়া যায়নি। আমরা আজকেও উদ্ধার অভিযান চলমান রেখেছি। এখন আমরা আশেপাশের খাল- নালাগুলো দেখছি কোথাও ভেসে উঠে কিনা। আমাদের ডুবুরী দল, রেসকিউ টিম ও বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার তানবির আহম্মেদ বলেন, ড্রেনে ময়লার পরিমাণ বেশি থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা এখন ময়লা সরানোর চেষ্টা করছি। ময়লাগুলো পরিষ্কার করা হলে আমাদের কাজ সহজ হবে। আশা করছি ময়লাগুলো সরাতে পারলে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এসময় নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ পরিচালনা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে কামাল ও তার বন্ধু রাকিব ফুটপাত ধরে হাঁটছিল। এসময় তারা দুজনেই নালায় পড়ে যায়। নালা থেকে রাকিব উঠে আসতে পারলেও কামাল নালা থেকে উঠতে পারেনি। এরপর রাকিব ঘটনাটি কামালের বাবাকে জানালে তিনি কয়েকদফা খোঁজ করেন সেখানে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ কামালের বাবা মো. কাউসার বলেন, আমার চার সন্তানের মধ্যে কামাল সবার ছোট। সোমবার তার বন্ধু রাকিবকে নিয়ে খেলতে বের হয়। পরে শুনি সে খালের পানিতে ভেসে গেছে। ভয়ে এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি। নিজে অনেক খোঁজ করেছি, কিন্তু পাইনি। মঙ্গলবার সকালেও খুঁজেছি। এরপর বিকালে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই।

তিনি বলেন, আমার ছেলে পত্রিকা বিক্রি করতো। আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর চার সন্তানকে নিয়ে ষোলশহর স্টেশনের ফুটপাতে থাকি। আমার ছেলেকে হয়ত আর জীবিত পাব না। অন্তত আমার ছেলের লাশটা দেখতে চাই।

প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম নগরীতে উন্মুক্ত নালা ও খালে পড়ে গত চার মাসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-চসিক’কে দায়ী করেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আগ্রাবাদে নালায় পড়ে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া। গত ২৫ আগস্ট ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে মুরাদপুরে নালায় পড়ে তলিয়ে যান সালেহ আহমদ নামের এক সবজি ব্যবসায়ী। যার খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৩০ জুন চশমা খালে যাত্রীবোঝাই সিএনজি অটোরিকশা পড়ে চালক সুলতান (৩৫) ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫) নিহত হন। তারও আগে গত বছর হালিশহর ইসলামিয়া ব্রিক ফিল্ড এলাকায় মহেশখালে পড়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়